হতাশা জয় করে নতুন জীবনের পথে বাঁধন: ৪২ বছরে পা দিয়ে শেয়ার করলেন জীবনের কাহিনি

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৪০ পিএম
হতাশা জয় করে নতুন জীবনের পথে বাঁধন: ৪২ বছরে পা দিয়ে শেয়ার করলেন জীবনের কাহিনি

বিনোদন ডেস্ক:

জীবনে বারবার হোঁচট খেয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনের দুঃসহ সময়, ক্যারিয়ারে বিরতি, মানসিক সংগ্রাম—কিছুই আজমেরী হক বাঁধনকে দমাতে পারেনি। নিজের শক্তিতে তিনি ফিরে এসেছেন আলোয়। আজ তিনি সাফল্য ও দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল প্রতীক।

রোববার নিজের ৪২তম জন্মদিনে সামাজিক মাধ্যমে একটি সাদাকালো ছবি পোস্ট করেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। ছবির সঙ্গে দীর্ঘ একটি পোস্টে তুলে ধরেন জীবনের কঠিন লড়াই, হতাশা জয় ও নতুন সূচনার গল্প।

বাঁধন লিখেছেন, ৪০ পার হওয়ার পর জীবনে যেন বড় পরিবর্তন নেমে আসে। দেশের জুলাই আন্দোলনের অস্থিরতা এবং এক বেদনাদায়ক সম্পর্কের বিচ্ছেদ তাকে গভীর মানসিক অশান্তিতে ঠেলে দেয়। তিনি বলেন, “সেই সময়টা আমার অসুস্থতার ভয়াবহ রূপ। মনে হয়েছিল জীবনের সবকিছু যেন শেষ হয়ে গেছে।”

এ সময় ওজন হঠাৎ ১৭ কেজি বেড়ে যায়। শরীরিক যন্ত্রণা, হাঁটু ও পিঠে টান, আর মনে ঘন কুয়াশার মতো স্থায়ী হতাশা তাকে প্রায় মৃত্যুর মতো নিস্তব্ধ করে ফেলেছিল। তিনি নিজেই লিখেছেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছাদের দিকে তাকিয়ে শুয়ে থাকতাম। মনে হতো নিজের শরীরেই বন্দি হয়ে গেছি।”

তবে তিনি হার মানেননি। বাঁধন বলেন, “না, পৃথিবী শেষ হয়ে যায়নি। আমি বেঁচে গেছি। আমি প্রতিবারই ফিরে আসি।”

একটি ফোন কল বদলে দেয় তার জীবন। বহুদিনের স্বপ্নের একজন পরিচালক কাজের প্রস্তাব দেন তাকে। সেই মুহূর্তই নতুন করে জ্বালিয়ে দেয় তার ভেতরের আগুন, ফিরে আসে আত্মবিশ্বাস ও উদ্যম। তিনি আবার ছুটতে শুরু করেন নিজের লক্ষ্য আর স্বপ্নের দিকে।

বাঁধনের ক্যারিয়ারের উত্থানপতন সবার দেখার বিষয়। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান তিনি। এরপর ওয়েব সিরিজ ‘সেভেন্থ সি’, ‘গুট’সহ একাধিক প্রজেক্টে তিনি দেখিয়ে দেন নিজের শক্তি ও সম্ভাবনা।

জন্মদিনে নিজের জন্য প্রার্থনা জানিয়ে বাঁধন লিখেছেন, আগামীর পথ আরও উজ্জ্বল হোক। যেন তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারেন নিজের প্রতিটি নতুন যুদ্ধে।

ভক্ত ও সহকর্মীরাও সামাজিক মাধ্যমে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন।

মানসিক অবসাদ, সামাজিক চাপ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষত—সেসব ভেদ করে আজ বাঁধন দাঁড়িয়ে আছেন নতুন আত্মবিশ্বাসে। তিনি যেন মনে করিয়ে দেন, জীবন যত কঠিনই হোক, লড়াই থামানো যাবে না। কারণ আলো আবারও ফিরে আসে।