সিংগাইরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ১২ বছর একই কর্মস্থলে !
সোহরাব হোসেন,সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ) অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.মহাবুল ইসলাম ১২ বছর ধরে রয়েছেন একই কর্মস্থলে । এ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত অফিস স্টাফ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চলছে কানাঘুষা।
জানা গেছে, প্রকৌশলী মহাবুল ইসলাম ২০১৩ সালে সিংগাইর এলজিইডি অফিসে যোগদান করেন। তারপর থেকে একই কর্মস্থলে রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে। এর মধ্যে পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলায় বদলি হলেও ৬ মাসের মাথায় পুনরায় সিংগাইর স্টেশনেই চলে আসেন।
সূত্রমতে,গত ২৭ জুলাই তাকে জেলার শিবালয় উপজেলায় বদলি করা হলেও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়ার তদবিরে বদলির আদেশ স্থগিত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় বিভিন্ন ভবন নির্মাণ প্লানের কাজগুলো প্রকৌশলী মহাবুল ইসলাম তদারকি করে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, বাড়ির ভবন নির্মাণ প্লান অনুমোদনে মহাবুলকে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা। প্ল্যানিং পাশ করানোর কাজে সর্বনিম্ন অর্ধ লক্ষ থেকে লক্ষাধিক টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না। এমন কাজে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান ও ইউএনও দিপন দেবনাথ তাকে একাধিকবার শাসিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে,এলজিইডি'র বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রকৌশলী মহাবুল হাতিয়ে নেন আর্থিক সুবিধা। ফলে,সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারেরা নিম্নমানের কাজ করেও পার পেয়ে যায়। আর এসবের নাটের গুরু হিসেবে সিংহভাগ টাকা পেয়ে মহাবুলের শেল্টার হিসেবে রয়েছেন উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী অভিযুক্ত মহাবুল ইসলাম বলেন, বিল্ডিংয়ের প্ল্যান অনুমোদনে পূর্বের উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও স্যার শাসানোর পর থেকে এখন আমি আর ওই কাজ করি না। একই স্টেশনে ১২ বছর থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঝখানে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় বদলি হয়ে আমি ৬ মাস ছিলাম। শিবালয়ে বদলির আদেশ স্টে করা হয়েছে স্বীকার করে বাকি অনিয়ম- দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন,উপ-সহকারী প্রকৌশলী মহাবুল ইসলামকে একই স্টেশনে রাখা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। শিবালয় উপজেলায় বদলি স্থগিতে আমার কোনো হস্তক্ষেপ নাই। ভবন নির্মাণ প্ল্যানিংয়ের কাজ কমিটিতে পাশ হয়। সেখানে আমি সদস্য মাত্র। এ ছাড়া এলজিইডি'র বিভিন্ন প্রকল্প কাজে অনিয়ম- দুর্নীতির কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই কয়েকটি স্কুলের নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইটের ব্যবহার দেখে সেগুলো রিমুভ করে দিয়েছি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে।









