সালমান শাহ হত্যা মামলা: সামিরাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২৬ পিএম
সালমান শাহ হত্যা মামলা: সামিরাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান মামলার এজাহার আমলে নিয়ে এই নির্দেশ দেন। প্রায় তিন দশক পর সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিল এই মামলার মাধ্যমে।

 হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ:

এর আগে গত সোমবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে মধ্যরাতে সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এরপর আদালত রমনা মডেল থানা পুলিশকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেয়।

প্রধান আসামি সামিরা হক:

নতুন এ মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডনসহ আরও কয়েকজন।

মোট ১১ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে এবং এজাহারে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি: এটি হত্যা, আত্মহত্যা নয়:

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সালমান শাহের স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে দাবি করে আসছেন যে, এটি আত্মহত্যা নয়—বরং পরিকল্পিত হত্যা।

তারা বলেন, পিবিআই-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ বলা হলেও, পরিবার শুরু থেকেই তা অস্বীকার করে আসছিল।

সালমান শাহের মামা আলমগীর কুমকুম সাংবাদিকদের বলেন,

> “সালমান শাহর বাবা একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তিনি বহুবার অপমৃত্যুকে হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তরের চেষ্টা করেছেন। সেই চেষ্টা করতে করতেই তিনি মারা গেছেন। এখন এতদিন পর সত্য সামনে আসছে। ইনশাআল্লাহ প্রমাণ হবে এটি হত্যা।”

 তিন দশকের পুরোনো রহস্য:

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার অকাল মৃত্যু দেশের কোটি দর্শকের মনে তৈরি করেছিল গভীর শোক ও প্রশ্ন—‘সত্যিই কি আত্মহত্যা?’

এরপর থেকেই রহস্য ও জল্পনায় ঢাকা পড়ে যায় বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মৃত্যুর ঘটনা। এবার আদালতের নতুন আদেশে সেই রহস্য উন্মোচনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 পরবর্তী পদক্ষেপ:

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্ত কর্মকর্তা যেন আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এ প্রতিবেদনেই নির্ধারিত হবে—প্রায় তিন দশক পরও সালমান শাহের মৃত্যু ঘিরে থাকা রহস্যের জট খুলবে, না কি তা আরও গভীর হবে।