শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, আত্মসমর্পণ করেছিলেন: শামসুজ্জামান দুদু

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ১১:১৪ পিএম
শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, আত্মসমর্পণ করেছিলেন: শামসুজ্জামান দুদু

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, “শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, বরং পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।” তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। শুধু ঘোষণাই নয়, নয় মাস তিনি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন এবং লাখো মুক্তিকামী মানুষের মতো তিনিও শহীদ হতে পারতেন।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুরাগ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজিত আলোচনা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।

দুদু বলেন, “জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন এবং আবার নিজের পেশায় ফিরে যান। তিনি রাজনীতি করার জন্য যুদ্ধ করেননি। কিন্তু নানান রাজনৈতিক বিবর্তনের মধ্যে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা তাকে সামনে নিয়ে আসে। তিনি দেশের হাল ধরেন। তার আদর্শ ও ত্যাগ আজও মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগায়।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও অবদান শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী হিসেবে শুধু বাংলাদেশের মানুষদের কাছেই নয়, গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও পরিচিতি লাভ করেন। “শত নির্যাতন, হামলা-মামলা তাকে দমাতে পারেনি। তিনি জাতিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এরশাদকে বিদায় করবেন এবং তা তিনি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছিলেন,” যোগ করেন দুদু।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “শেখ হাসিনার স্বৈরশাসন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে শয়তানও তার তুলনায় কম ভয়ঙ্কর মনে হয়। তাকে বিদায় করার অন্যতম নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান।”

দুদু অভিযোগ করেন, আওয়ামী পরিবারের ইতিহাসের সঙ্গে ‘ব্যাংক ডাকাতি’ জড়িয়ে আছে। তার ভাষায়, “শেখ হাসিনা প্রথম ব্যাংক ডাকাত নন, শেখ মুজিবের জীবদ্দশাতেই তার পরিবারের একজন এক বিখ্যাত ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই ঘটনা শুধু দেশবাসী নয়, সারা বিশ্ব জানে।”

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “গুম-খুন, দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র ফেরাতে একটি সাচ্চা ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এখন সময়ের দাবি।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা মতিহার। এ সময় বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ, অভিনেতা এ বি এম সোহেল রশিদ, সাধারণ সম্পাদক রুবিনা আলমগীর, কবি ও সাংবাদিক আকাশমনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।