রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হল সংসদ নির্বাচনে শিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর দাপট
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) হল সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি হলের প্রায় সবগুলোতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে জোটটি। ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ মোট ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে ২০টিতেই বিজয়ী হয়েছেন ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থীরা।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ১৭টি হলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ—ভিপি, জিএস ও এজিএস এর মধ্যে ভিপি ও এজিএস পদে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত জোট। অন্যদিকে মাত্র তিনটি পদে শিবিরের বাইরের প্যানেল থেকে প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
সাবেক সমন্বয়ক ও ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য জোট’-এর সালাহউদ্দিন আম্মার সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয় পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ ভোট। উল্লেখযোগ্যভাবে, আম্মার ও ফাহিম রেজা দুজনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ছিলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ তোফা, আর ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের মোছা. নার্গিস খাতুন।
বাকি ২০টি পদে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’।
ভিপি পদে জোটের প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) মোট ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের শেখ নূর উদ্দীন (আবীর) পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট।
রাকসুর নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২৮ হাজার ৯০১ জন। রাকসু, হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে মোট ৮৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
এবারের নির্বাচনে ১১টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর মধ্যে আলোচিত ৮টি প্যানেল হলো—
ছাত্রদল মনোনীত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’
ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’
ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতৃত্বে গঠিত ‘রাকসু ফর র্যাডিক্যাল চেঞ্জ’
সাবেক সমন্বয়কদের নেতৃত্বে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’
বাম জোটের ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’
ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) ঘোষিত ‘অপরাজেয় ৭১, অপ্রতিরোধ্য ২৪’
সাবেক নারী সমন্বয়কের নেতৃত্বে ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন মনোনীত ‘সচেতন শিক্ষার্থী পরিষদ’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের এমন ব্যাপক জয় প্রমাণ করে যে, শিক্ষার্থীরা সংগঠনের ওপর আস্থা দেখিয়েছে। অন্যদিকে পরাজিত প্যানেলগুলো অভিযোগ করেছে, নির্বাচনের কিছু কেন্দ্রে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে—তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ নাকচ করেছে।









