ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ইতালি ও স্পেন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন তিনি। এর মাত্র একদিন আগে জার্মানি থেকেও সেনা সংখ্যা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার উদ্যোগে ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করছে না, যা অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ আচরণ।

ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইতালি আমাদের কোনো সহায়তা করেনি, আর স্পেন তো একেবারেই ভয়াবহ। আমি সম্ভবত এই দুই দেশ থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করব।”

ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ট্রাম্পের এই টানাপড়েনের পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এরমধ্যে গত মার্চের শেষের দিকে ইতালি তাদের সিসিলির বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে যুদ্ধের জন্য মার্কিন অস্ত্রবাহী বিমান চলাচলের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়া স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের বিরোধিতা করে আসছেন। দেশটি ইরানে হামলার জন্য যৌথ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের একটি মন্তব্যের পর ট্রাম্প জার্মানিতে মোতায়েন সেনা কমানোর হুমকি দেন।

ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে অভিহিত করেছেন ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো। তিনি রোমের বিরুদ্ধে সহযোগিতা না করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সমুদ্র নিরাপত্তা মিশনে ইতালি সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে, স্পেন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও দেশটি বর্তমানে ট্রাম্পের নীতির অন্যতম কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

ইতালিতে প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন সেনা সাতটি নৌঘাঁটিতে অবস্থান করছে। বর্তমানে স্পেনে প্রায় ৩,৮০০ মার্কিন সেনা রোটা নৌঘাঁটি ও মোরোন বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার সক্রিয় সেনা মোতায়েন রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি জার্মানিতে।

ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডন বেকন। তিনি একে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন কংগ্রেসে একটি আইন পাস করা হয়েছে, যার ফলে প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে ইউরোপ থেকে বড় ধরনের সেনা প্রত্যাহার করা এখন বেশ কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলে বৈশ্বিক সামরিক কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। তবে জার্মান সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এই হুমকিকে প্রকৃত পরিবর্তনের চেয়ে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ হিসেবেই বেশি দেখছেন।