মৃত্যুর আগে শেষ স্ট্যাটাসে যা লিখে গেছেন মেট্রোরেল দুর্ঘটনায় নিহত যুবক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০৩ পিএম
মৃত্যুর আগে শেষ স্ট্যাটাসে যা লিখে গেছেন মেট্রোরেল দুর্ঘটনায় নিহত যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রো রেলস্টেশনের কাছে মেট্রোরেলের একটি পিলার থেকে খুলে পড়া ‘বিয়ারিং প্যাড’ নামের ধাতব যন্ত্রাংশের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন আবুল কালাম (৩৫) নামের এক যুবক। রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবুল কালাম শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি গ্রামের জলিল চোকদারের ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জের জলকাঠি এলাকায় বসবাস করতেন। পেশায় ছিলেন একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিক। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নিয়মিতই ফার্মগেট এলাকায় যাতায়াত করতেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হঠাৎ করেই মেট্রোরেলের উপর থেকে ধাতব যন্ত্রাংশটি নিচে পড়ে সরাসরি আবুল কালামের মাথায় আঘাত হানে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবুল কালাম লিখেছিলেন, “ইচ্ছে তো অনেক। আপাতত যদি জীবন থেকে পালিয়ে যেতে পারতাম।” স্ট্যাটাসটি তার জীবনের শেষ লেখা হয়ে রইলো।

পারিবারিক জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলে আব্দুল্লাহর বয়স ৫ বছর এবং মেয়ে সুরাইয়া আক্তারের বয়স ৩ বছর। স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি অবহেলার জেরেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের মেঝভাবি আছমা বেগম বলেন, “দুপুর ১২টার দিকে কালামের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। বলেছিল দু-এক দিনের মধ্যে বাড়ি আসবে, ইলিশ মাছ কিনে রাখতে। সেই ভাই আর ফিরলো না...”

চাচাতো ভাই আব্দুল গণি চোকদার বলেন, “কালাম খুব পরিশ্রমী ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমে ঢাকায় ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলেন। সরকারের অবহেলার কারণে আমার ভাই মারা গেল। এখন তার পরিবারকে দেখবে কে?”

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেট্রোরেল কাঠামোর ভারসাম্য ধরে রাখতে ব্যবহৃত বিয়ারিং প্যাডটি আলগা হয়ে নিচে পড়ে যায়। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক ও রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, নিহত ব্যক্তির পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারের কর্মক্ষম কাউকে মেট্রোরেলে চাকরি দেওয়া হবে। তিনি আহতদের চিকিৎসা খরচও নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখযোগ্য হলো, এর আগেও গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে ট্রেন চলাচল ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। সেই ঘটনায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ফার্মগেটের আজকের দুর্ঘটনা দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের গুরুতর ত্রুটি প্রকাশ করল।

শহরের যোগাযোগব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নিহত আবুল কালামের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া আর ক্ষোভের বিস্ফোরণ।