মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সেই দুই ছাত্রী এইচএসসিতে উত্তীর্ণ

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০১:০৪ এএম
মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সেই দুই ছাত্রী এইচএসসিতে উত্তীর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই হৃদয়বিদারক ঘটনার নায়িকা সায়মা আক্তার ও লাবনী আক্তার এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

চলতি বছরের ৩ জুলাই সকালে সখীপুর উপজেলার হাতিয়া গ্রামের সায়মা আক্তার ও কচুয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার লাবনী আক্তার মায়ের মরদেহ বাড়িতে রেখেই পরীক্ষায় অংশ নেন। দুটি ঘটনা ঘটে গত ২ জুলাই দিবাগত রাতে— যা সারা অঞ্চলে গভীর বেদনা ছড়িয়ে দিয়েছিল।

সায়মা আক্তার হাতিয়া গ্রামের মো. রায়হান খানের মেয়ে এবং লাবনী আক্তার আব্দুল মান্নান মিয়ার মেয়ে। তারা দুজনই পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান। মায়ের মৃত্যুতে শোকাহত হলেও আত্মীয়স্বজন ও শিক্ষকদের উৎসাহে পরীক্ষাকেন্দ্রে যান তারা।

হাতিয়া ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী সায়মা অংশ নেন সখীপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে। কলেজটির অধ্যক্ষ রহিজ উদ্দিন বলেন,

> “সায়মার মায়ের মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনাটি সত্যিই হৃদয়বিদারক। আল্লাহ যেন তাকে শক্তি দেন।”

তিনি জানান, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সায়মা জিপিএ–৩.৭৫ পেয়েছে।

অন্যদিকে, লাবনী আক্তার সানস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ কেন্দ্রে।

সানস্টার ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন বলেন,

> “মায়ের মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন। তবুও লাবনী যে সাহস দেখিয়েছে, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

লাবনী এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৪.৫৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

দুজনেই জানান, মায়ের ভালোবাসা ও স্বপ্ন পূরণের তাগিদেই তারা পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এখন ফলাফল হাতে পেয়ে তারা মায়ের আত্মার শান্তি কামনা করছেন।