বৃষ্টির অজুহাতে রাজধানীর বাজারে সবজি ও মাছের দামে অস্থিরতা

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ১২:১৩ পিএম
বৃষ্টির অজুহাতে রাজধানীর বাজারে সবজি ও মাছের দামে অস্থিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা এবং কাঁচামরিচের দাম এক লাফে ১০০ টাকা বেড়েছে। একইসঙ্গে বাজারে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ ও মাংসের দামও চড়া অবস্থায় রয়েছে।


বৃষ্টিকে দায়ী করলেন বিক্রেতারা:

বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে চাষিদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারেই সংকট তৈরি হয়েছে। গেন্ডারিয়ার সবজি বিক্রেতা হোসেন আলী বলেন, ‘পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন পাঁচ কেজি মরিচ কিনতে হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় পাওয়া যেত।’


ক্রেতাদের ক্ষোভ:

তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ ক্রেতারা। সূত্রাপুর বাজারে আসা সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘দেশের ব্যবসায়ীরা কোনো একটা বাহানা পেলেই সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দেন। তারা যেন অপেক্ষায় থাকেন নতুন কোনো ইস্যুর জন্য। কেয়ামতের দিন আগে জানতে পারলে মনে হয় কাফনের কাপড়ের দামও বাড়িয়ে দেবেন।’


সবুজ হোসেন নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে যেখানে অন্যান্য দেশে ব্যবসায়ীরা ছাড় দেন, আমাদের দেশে তখনই দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ব্যবসায়ীদের মানসিকতা স্পষ্ট বোঝা যায়।’


সবজির বাজার:

রাজধানীর সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, গেন্ডারিয়া, নিউমার্কেট ও ধূপখোলা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে—


কাঁচামরিচ ২৮০–৩২০ টাকা (গত সপ্তাহে ছিল ২০০–২২০ টাকা)


গোল বেগুন ১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা


করলা ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ও কাঁকরোল ৮০ টাকা


গাজর ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৮০ টাকা, টমেটো ১২০–১৪০ টাকা


মিষ্টি কুমড়া, ধুন্দল ৬০–৭০ টাকা


লাউ ছোট ৮০, বড় ১২০ টাকা, জালি কুমড়া ৮০ টাকা


পুঁইশাক ৪০ টাকা আঁটি, লালশাক ৩০ টাকা আঁটি

শুধু আলু (২৫–৩০ টাকা) ও কাঁচা পেঁপে (২০–২৫ টাকা) মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে রয়েছে।



মাছের বাজার:

আগামীকাল (৪ অক্টোবর) থেকে সরকারিভাবে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ হওয়ায় বাজারে ইলিশের দামও বেড়েছে হু হু করে।


বড় ইলিশ কেজি ২৩০০–২৪০০ টাকা


মাঝারি (৭০০–৮০০ গ্রাম) ২০০০ টাকা


ছোট ইলিশ (৫০০ গ্রাম) ১৬০০ টাকা



অন্য মাছের দামও বেড়েছে:


চাষের রুই ৪০০–৫৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০–৪২০ টাকা


দেশি শিং ১০০০–১২০০ টাকা, চাষের শিং ৩৫০–৫৫০ টাকা


পাঙাশ ২০০–২৩৫ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা


টেংরা ৬০০–৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০–১৪০০ টাকা



সুমন নামে ধূপখোলা বাজারে মাছ কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে ইলিশের দাম অনেক কম ছিল। এবার দামের কারণে কিনতে পারছি না। অন্য মাছও কেজিতে ৫০–১০০ টাকা বেড়েছে।’


মাংস-মুরগির বাজার:

মাংস ও মুরগির বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে।


সোনালি মুরগি ৩০০–৩৩০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০–১৯০ টাকা, দেশি মুরগি ৬০০–৬৮০ টাকা


গরুর মাংস ৭৫০–৮০০ টাকা, খাসি ১১০০–১২০০ টাকা, বকরি ৯০০–১০০০ টাকা


দেশি হাঁস ৬০০–৬৫০ টাকা, রাজহাঁস ১৬০০–২০০০ টাকা, চায়না হাঁস ১২০০–১৫০০ টাকা



ক্যাবের মন্তব্য:

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কাজ করছে না। সরকার পতনের পর চাঁদাবাজি কিছুটা কমেছিল, কিন্তু আবার সক্রিয় হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি আরও জোরদার করা উচিত।’