বদলির আদেশ অমান্য করে দায়িত্বে রুমানা আফরোজ: রাজশাহীতে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৮ পিএম
বদলির আদেশ অমান্য করে দায়িত্বে রুমানা আফরোজ: রাজশাহীতে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী  প্রতিনিধি:

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) পদে বদলি হওয়া সত্ত্বেও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সচিব রুমানা আফরোজ এখনও তাঁর পুরোনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। এর ফলে রাসিক প্রশাসনে বিভ্রান্তি ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে (নং-০৫.০০.০০০০.১৩৯.১৯.০১০.২৪-৩২৭) রুমানা আফরোজকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর তাঁকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও অর্পণ করা হবে।

তবে প্রজ্ঞাপন জারির তিন সপ্তাহ পার হলেও তিনি এখনো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাসিকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বদলির আদেশ জারির পরও তিনি নিয়মিত অফিস করছেন এবং সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজাউল করিম বলেন, “সচিব রুমানা আফরোজকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বদলি করা হলেও তাঁর স্থলে এখনো কাউকে পদায়ন করা হয়নি। তিনি চলে গেলে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হবে। তাই নতুন সচিব না আসা পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে রয়েছেন।”

তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ার পর কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বাধ্য। প্রয়োজনে অস্থায়ীভাবে দায়িত্বভার অন্য কর্মকর্তাকে দেওয়া যায়।

রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে বদলির আদেশ অমান্য করার অভিযোগ এটাই প্রথম নয়।

২০২৩ সালের আগস্টে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বদলি আদেশ জারি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা মিষ্টি বিতরণ করে তার বিদায় উদযাপন করেছিলেন।

এছাড়া ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশাসনিক সূত্র জানায়, এসব ঘটনার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে প্রশাসনের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশ্ন উঠেছে।

রাসিক সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোন্দকার আজিম আহমেদ শিগগিরই বদলি হতে পারেন। রুমানা আফরোজ হয়তো এই বদলির পর নিজ দায়িত্বস্থলে যোগ দেবেন। তবে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা প্রভাবের কারণে কি সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে?

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশ বাস্তবায়নে বাধা থাকলে সেটি লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হয়। নিজের সিদ্ধান্তে বদলি স্থগিত রাখা সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘনের শামিল।”

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।”

কিন্তু প্রায় তিন সপ্তাহ পার হলেও সেটি কার্যকর হয়নি। এতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে কিভাবে একজন সচিব আগের পদে বহাল থাকতে পারেন?

বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও রাসিক প্রশাসকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।