জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইবির গ্রীণ ফোরামের আলোচনা সভা
ইবি প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জুম্মা নামাজ শেষে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদের সভাকক্ষে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গ্রীণ ফোরামের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে গ্রীণ ফোরামের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে সংগঠনটির সহ-সভাপতি ও হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সিনা। এসময় আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দীন মিঝি, শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান ও সেক্রেটারি ইউসুব আলীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিবিরের অন্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় শাখা শিবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভোটাধিকার ও মানুষের কথার অধিকার আদায়ের জন্য এটি জাতীয় বিপ্লব। এর মূল লক্ষ্য ১৭ বছর ভুলুন্ঠিত হয়েছে। তবে জাতীয় বিপ্লবকে যেমন হাইলাইট করছে একটা শ্রেণী, জুলাই বিপ্লবকে তেমন হাইলাইট করছে না। একই বয়ান তৈরি করছে। আইনি ভিত্তি দিতে চায় না, গণভোট চায় না। এইটা না হলে বিপ্লবীদের জীবন বিপন্ন হবে৷ আমরা চাই সকল বিপ্লবকে যেন সকলে ধারণ করি।
গ্রীণ ফোরামের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ১৯৭৫ সালে দেশে পরিবর্তন এসেছে, এরপর বিপ্লব প্রতিবিপ্লবের ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর দেশকে রক্ষার জন্য মুক্তিকামী মানুষ জেগেছে, জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র এসেছে, বাকশাল বাদ দিয়ে সর্বজনীন রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। বিগত ১৭ বছর এ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন হয় নি। ২৪শের জুলাই আন্দোলনের পর তা আবার সারাদেশে পালিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকেও অনেকে এ দিবসকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জুলাই সনদকে স্বীকৃতি না দিয়ে ক্ষমতায় গেলে আবার একটা পরিস্থিতি আসতে পারে। নির্বাচনের আগে অবশ্যই সনদ স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানাই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবু সিনা বলেন, আমরা ৭১ কে স্বীকার করি, ৩৬ জুলাই অভ্যুত্থানকে স্বীকার করি। কিন্তু আমাদের কিছু বন্ধু আছে যারা এর মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পারছে না। তারা বিভিন্ন খোঁড়া যুক্তি দিয়ে যেনতেনভাবে ক্ষমতা দখল করলেই হয়, এই হলো তাদের অবস্থা। অথচ ৩৬ জুলাই সনদের আইন আগে পাশ করিয়ে জাতীয় নির্বাচন করাই যুক্তিযুক্ত। এটা করতে না পারলে যারা অপরাধী তাদের বিচার হবে না।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহী-জনতা বিপ্লবের স্মরণে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হয়। কর্নেল (অবঃ) আবু তাহেরের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান জেনারেল খালেদ মোশাররফের ৩ দিনব্যাপি সামরিক অভ্যুত্থানের পতন ঘটায়। এই বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দীদশা থেকে মুক্তি পান, এবং পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের আমলে মূলত ৭ই নভেম্বর বাংলাদেশে সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়েছে।









