চোখের সামনে পঞ্চাশ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই: ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হাহাকার
মোঃ জাহেরুল ইসলাম:
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার মালামাল। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আগুন থেমে থেমে জ্বলতে থাকে।
ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। সেনাবাহিনী, বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও পুলিশের সদস্যরাও আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করছেন। ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধোঁয়া ও তাপের কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটে।
কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা
কার্গো ভিলেজের ৮ নম্বর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট আব্দুর রহিম চোখে পানি নিয়ে বলেন,
> “মালগুলো সকালেই নেমেছিল, রাখা হয়েছিল রানওয়েতেই। বন্ধের দিন থাকায় সেগুলো বের করা যায়নি। চোখের সামনে পঞ্চাশ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন,
> “আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস আসতে অনেক দেরি করেছে। সময়মতো আসলে এত ক্ষতি হতো না।”
আব্দুর রহিম বিদেশ থেকে ইলেকট্রনিক্স পণ্য আমদানি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন বলে জানান।
কুরিয়ার সার্ভিসে আগুন, গার্মেন্টস পণ্য পুড়ে ছাই
প্রথমে আগুন লেগেছিল একটি কুরিয়ার সার্ভিসে, পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোডাউনগুলোতে।
তামিম এক্সপ্রেস লিমিটেড নামের এক কুরিয়ার কোম্পানির পরিচালক সুলতান আহমেদ বলেন,
> “শনিবার হাফ শিপটিং কার্যক্রম চলে কার্গো কমপ্লেক্সে। সকাল ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত খোলা ছিল। দুপুরেই আমাদের আড়াই টন গার্মেন্টস পণ্য নামানো হয়। সব পুড়ে গেছে নিশ্চিত।”
তিনি জানান, পণ্যগুলোর মধ্যে বাটন, জিপার, ফেব্রিকস ও বিভিন্ন লেবেল আইটেম ছিল।
‘ডেঞ্জারাস গুডস’ গোডাউন থেকেই আগুনের বিস্তার
ঘটনাস্থলে কর্মরত সোহেল মিয়া, যিনি ইমপোর্ট সেকশনে কাজ করেন, বলেন,
> “প্রথমে আগুন লেগেছিল কুরিয়ার সার্ভিসের গোডাউনে। পরে ফার্মাসিউটিক্যাল, কুল রুম ও ‘ডেঞ্জারাস গুডস’ গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে।”
তিনি আরও জানান,
> “‘ডেঞ্জারাস গুডস’ গোডাউনে বিস্ফোরক দ্রব্য রাখা থাকে। আগুন লাগার পর সেগুলো বিকট শব্দে ফেটে যেতে থাকে। পানি দিয়েও এই আগুন সহজে নেভানো সম্ভব নয়।”
কেমিক্যাল থেকেই আগুনের সূত্রপাত?
একাধিক সিএনএফ এজেন্ট জানান, স্কাই লাউঞ্জে কেমিক্যাল, ফেব্রিক, মেশিনারিজসহ সব ধরনের পণ্য মজুত থাকে। তাদের ধারণা, কেমিক্যাল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
মাস্টার ইয়ার কোম্পানির সিএনএফ এজেন্ট মো. রোকন মিয়া বলেন,
> “প্রতিদিন টন টন মাল কার্গো হয়ে আসে। এই ঘটনায় অনেক ব্যবসায়ী বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।”
বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ
অগ্নিকাণ্ডের পর বিমানবন্দরের ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. মাসুদুল হাসান মাসুদ বলেন,
> “আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে সব ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়।”
আহত অন্তত ৩৫ জন
পুলিশ ও আনসার বাহিনীর প্রাথমিক তথ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুনের কারণ এখনো অজানা
বিমানবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত হয় কার্গো ভিলেজের পাশে স্কাই ক্যাপিটাল ও একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাঝের পয়েন্টে।
ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, কেমিক্যাল বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।









