চট্টগ্রাম ইপিজেডে শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে প্যাসিফিক গ্রুপের আট কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৩১ পিএম
চট্টগ্রাম ইপিজেডে শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে প্যাসিফিক গ্রুপের আট কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় টানা শ্রমিক বিক্ষোভ ও অস্থিরতার জেরে দেশের অন্যতম বৃহৎ পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্রুপ তাদের আটটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে গ্রুপের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (১৮ অক্টোবর) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বন্ধ ঘোষিত কারখানাগুলো হলো— প্যাসিফিক জিন্স-১, প্যাসিফিক জিন্স-২, প্যাসিফিক অ্যাটায়ারস, প্যাসিফিক অ্যাক্সেসরিজ, প্যাসিফিক ওয়ারকওয়্যারস, ইউনিভারসেল জিন্স, এইচটি ফ্যাশন ও জিন্স ২০০০।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৪ অক্টোবর থেকে কিছু শ্রমিক বেআইনিভাবে কর্মবিরতি পালন করে আসছে। বারবার কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও তারা নির্দেশনা অমান্য করে। বরং ১৫ ও ১৬ অক্টোবর তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, ভাঙচুর, নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়।

প্যাসিফিক গ্রুপের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শ্রমিকদের এ ধরনের আচরণ ‘বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯’-এর অধীনে বেআইনি ধর্মঘট হিসেবে গণ্য হয়। ফলে কারখানার কার্যক্রম চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, এ কারণে মালিকপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর পুলিশের হয়রানির অভিযোগে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। এরপর বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে শুরু হয় নতুন করে কর্মবিরতি ও আন্দোলন। বৃহস্পতিবার ইপিজেডের বিভিন্ন সেক্টরে প্যাসিফিক গ্রুপের কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েকটি কারখানার কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে।

প্যাসিফিক গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার সুহৃদ চৌধুরী বলেন,

> “বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর শ্রমিকদের শান্ত করতে সাময়িক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অবশেষে রাতে মালিকপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।”

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ২২ দফা দাবিতে প্যাসিফিক ক্যাজুয়াল লিমিটেডের শ্রমিকরা আন্দোলনে নামলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তখন দুটি ইউনিট বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। পরবর্তীতে শ্রমিকরা মুচলেকা দিয়ে কাজে যোগ দেন।

চট্টগ্রাম ইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে সিইপিজেডের সামগ্রিক উৎপাদন পরিবেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।