এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ৫% বাড়তে পারে, ন্যূনতম দুই হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৩১ পিএম
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ৫% বাড়তে পারে, ন্যূনতম দুই হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব

মোঃ জাহেরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাতা ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে যাদের বর্তমান ভাতা কম, তাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুই হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সিনিয়র শিক্ষকরা এর চেয়ে বেশি ভাতা পাবেন।

এছাড়া চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করে এক হাজার টাকায় উন্নীত করার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে গত ৫ ও ৮ অক্টোবর নতুন করে প্রস্তাব পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে।

সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন হওয়ার পর খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি হতে পারে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

> “অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ফোনে আমাদের জানানো হয়েছে যে ৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পরও কেউ ন্যূনতম দুই হাজার টাকার কম পাবেন না।”

তিনি আরও বলেন,

> “আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসবে, যার ফলে বাড়ি ভাতা দ্বিগুণ হতে পারে। এছাড়া ২০২৬ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। অর্থ সংকটের কারণে আপাতত ২০ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত সচিব দিলরুবা শাহীনার কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুগ্মসচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,> “বাড়ি ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে প্রজ্ঞাপন জারি করতে অর্থ উপদেষ্টার অনুমোদন প্রয়োজন। এজন্য ফাইল ডি-নথিতে তোলার প্রক্রিয়া চলছে।”

শাহবাগে শিক্ষক আন্দোলন অব্যাহত:

এদিকে একই দিনে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। দুপুরে জাতীয় গ্রন্থাগারের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ, তবে পরে শিক্ষকরা ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন।

সকাল থেকেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে আন্দোলনরত শিক্ষকদের উপস্থিতিতে। “বেতন বৈষম্য দূর করো”, “শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করো”— এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি বলেন,

> “আমাদের ব্লকেড কর্মসূচি দুপুরে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরামের নেতারা শহীদ মিনারে এসে আলোচনায় অংশ নেবেন বলে সময় কিছুটা পেছানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,

> “২০ শতাংশ মানে ২০ শতাংশ, মেডিক্যাল ভাতা ১৫০০ টাকা মানে ১৪৯৯ নয়, আর উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ মানে ৭৪ শতাংশ নয়। তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”

দাবিগুলো হলো:

১. বাড়ি ভাতা ২০ শতাংশে উন্নীত করা

২. চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা করা

৩. উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা

অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।