এনসিপি নেতাদের ঔদ্ধত্যে মনে হচ্ছে তারা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে’: নুরুল হক নুর

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫৩ এএম
এনসিপি নেতাদের ঔদ্ধত্যে মনে হচ্ছে তারা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে’: নুরুল হক নুর

 ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, এনসিপি নেতাদের ঔদ্ধত্য ও অহমিকা দেখে মনে হচ্ছে, তারা যেন সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নুরুল হক নুর বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা যেন তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য, মন্ত্রী-তন্ত্রী হওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াব। এটা দেখে খুবই বিস্মিত হয়েছি।”

তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “গ্রামে একটা কথা আছে—অল্প পানির মাছ হঠাৎ বেশি পানিতে পড়লে কী করবে, তা বুঝে উঠতে পারে না। কিংবা অল্প পয়সার মানুষ হঠাৎ ধনী হয়ে গেলে, সে যে ধনী হয়েছে সেটা দেখানোর জন্য বিড়াল-কুকুর নিয়ে রাস্তায় ঘোরে। এখন আমাদের কিছু এনসিপি ভাইদের কথাবার্তায় সেই মনোভাবই দেখছি।”

নুর বলেন, সম্প্রতি এনসিপির কিছু নেতার গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে—তাদের একটি অংশ নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদের একীভূত হওয়া চায় না। “তারা ভাবছে একীভূত হলে তাদের ‘নেতাগিরি’ হয়তো টিকবে না,” মন্তব্য করেন নুর।

তিনি বলেন, “এনসিপির মূল নেতৃত্ব আক্তার ও নাহিদ—এই দুজনই ২০১৯ সালে আমার নেতৃত্বাধীন ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে থেকেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। অর্থাৎ আমাদের রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা ছিল একসাথে। সেই জায়গা থেকে আমি চাই তরুণ রাজনীতিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকুক।”

অসুস্থতা সত্ত্বেও এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদের একীভূত হওয়ার আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, “সেই বৈঠকে শীর্ষ পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করেছেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পরে যদি তরুণরা রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান নিতে না পারে, তাহলে পুরানো রাজনৈতিক সংস্কৃতি আবারও আধিপত্য বিস্তার করবে।”

তিনি আরও বলেন, “এনসিপি বা গণ অধিকার পরিষদ—উভয় পক্ষের তরুণ রাজনীতিকদের পক্ষে পুরোনো দলের মতো অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। তাই বিভক্ত থাকলে তারা হারিয়ে যাবে, অনেকে রাজনীতি থেকেও ছিটকে পড়বে। ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া সামনে টিকে থাকা কঠিন।”

নুরের মতে, যদি এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদ একীভূত হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ তরুণ রাজনৈতিক শক্তি গঠন করতে পারে, তাহলে তা দেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। “আমরা গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে একীভূত হওয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ ইতিবাচক অবস্থানে আছি,” বলেন তিনি।