অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ছড়ানোর হুমকি,গ্রামবাসীর হাতে মাদ্রাসার প্রভাষক আটক, অর্থের বিনিময়ে আপোষ
সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই(জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় এলতা গ্রামে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা, যেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্ত মোবাইলে ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসার প্রভাষকের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে আবারও তরুণীর বাড়িতে প্রবেশ করলে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন তিনি। পরে দেড় লাখ টাকায় আপোষের মাধ্যমে ঘটনাটি নিস্পত্তি করা হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তি জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মাওলানা এমরান হোসেন। পাশাপাশি তিনি কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমামের দায়িত্বেও ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কবিরাজি চিকিৎসা করে আসছেন। ওই তরুণী শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার চিকিৎসা নিতে গেলে এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তরুণীর পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, এই সম্পর্কের সূত্র ধরে এমরান হোসেন তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন এবং সেই সময়কার অন্তরঙ্গ মুহূর্ত মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখেন। কিন্তু তরুণী বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে ইমামের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মোলামগাড়ীহাট বাজারে তরুণী তার নানার সঙ্গে ঘুরতে গেলে সেখানে ইমামের সঙ্গে দেখা হয়। সেখানেই ইমাম জোরপূর্বক তরুণীর হাত ধরে সিএনজিতে তোলার চেষ্টা করেন তখন স্থানীয় লোকজন এসে বাধা দিলে ইমাম সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
কিন্তু রাতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। এমরান হোসেন ঐরাতেই মোবাইল ফোনে তরুণীকে হুমকি দেন,যদি সে তার কথা না শোনে, তাহলে পূর্বের অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে ভীত হয়ে তরুণী তার পরিবারকে পুরো বিষয়টি জানায়।পরদিন শনিবার দুপুরে এমরান হোসেন আবারও তরুণীর বাড়িতে গোপনে গিয়ে ঘরের ভিতরে অবস্থান নেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা গ্রামবাসীকে ডেকে এনে তাকে ঘরে আটকে রাখেন।পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় এবং পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে ঐ তরুণীকে বিয়ের পরিবর্তে দেড় লাখ টাকা দিয়ে আপোষের মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তরুণীর মামা রুবেল হোসেন জানান, তার ভাগ্নীর বাবার মৃত্যু হয়েছে এবং সে তার মায়ের সঙ্গে গ্রামে বসবাস করছে।মেয়েটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল বলে স্থানীয় ইমাম ও কবিরাজ এমরান হোসেনের কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিল।কিন্তু এখন যে এই অবস্থার সৃষ্টি হবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।ইমাম বাড়িতে এলে গ্রামের লোকজন এসে তাকে আটকে রাখে।আমরা মামলা করতে চাইলেও গ্রামের মানুষজন মিমাংসার কথা বলে নগদ দেড় লাখ টাকা দিয়ে আপোষ করে দেয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রভাষক এমরান হোসেন স্বীকার করেছেন যে তিনি তরুণীর বাড়িতে গিয়েছিলেন,তবে কোনো ‘খারাপ উদ্দেশ্যে যাননি বলে দাবি করেন। শুক্রবার রাস্তায় তরুণীর হাত ধরে টানাটানি করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
বিএনপি নেতা মুকুল হোসেন জানান,ওই তরুণীর পরিবার তার আত্মীয়।তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছেন স্থানীয়ভাবে বসে দেড় লাখ টাকায় আপোষ হয়েছে।
এদিকে কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তারা বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিটিয়ে ফেলেছে।এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









