সংস্কার না হলে বিপিএলে ফিরবে না ফ্র্যাঞ্চাইজিরা

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
সংস্কার না হলে বিপিএলে ফিরবে না ফ্র্যাঞ্চাইজিরা

সূত্রঃ সংগৃহীত

স্পোর্টস ডেস্ক


বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এবার আয়োজন না করে টুর্নামেন্টের কাঠামোগত সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর বিসিবির এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে গত আসরের তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি—ঢাকা ক্যাপিটালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রাইডার্স।


শুক্রবার বিসিবির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেয় তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধিরা। গত আসরের বাকি তিন দলের মধ্যে বিসিবির মালিকানাধীন একটি দল থাকলেও সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কোনো প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।


গত আসরের আগে পাঁচ বছরের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দল বরাদ্দ দিয়েছিল বিসিবি। সে হিসাবে নিয়ম অনুযায়ী এবারও বিপিএল আয়োজনের কথা ছিল। তবে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের নেতৃত্বে পুরোনো কাঠামো বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মডেল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে চলতি বছর বিপিএল আয়োজন না হলেও আপত্তি নেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর।


রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক বলেন, বিপিএলকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এক দশক ধরে টুর্নামেন্টটি আয়োজন হলেও এখনো এর স্থায়ী ও সুসংগঠিত কাঠামো তৈরি হয়নি।


তিনি বলেন, “বিপিএলের সংস্কার প্রয়োজন। আমরা গত ১০ বছর ধরে আছি, কিন্তু আমাদের কোনো গঠনমূলক ধারণা নেই, টেকসই কোনো মডেল নেই। বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো একসঙ্গে কাজ করে এসব মডেল তৈরি করতে পারলে দীর্ঘ মেয়াদে বিপিএল অনেক ভালো অবস্থানে যাবে।”


বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি ক্যালেন্ডারের দাবিও জানিয়েছে রংপুর রাইডার্স। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান মোকছেদুল কামাল বাবু বলেন, প্রতিবছর হঠাৎ করে বিপিএলের তারিখ ঘোষণা হওয়ায় প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না।


তিনি বলেন, পাঁচ বছর বা দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করে সেই অনুযায়ী বিপিএল পরিচালনা করা হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও আগেভাগে পরিকল্পনা করতে পারবে।


ঢাকা ক্যাপিটালসও বিসিবির সংস্কার পরিকল্পনায় সময় দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলটির প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদ। তাঁর মতে, নতুন কাঠামোতে বিসিবি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও খেলোয়াড়—সব পক্ষের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।


তিনি বলেন, “গত দুই বছর যেভাবে ছিল, ওভাবে করলে থাকব না। আমরা টাকা ও সময় বিনিয়োগ করি ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য, কিন্তু দিন শেষে মানুষ আমাদের গালি দেয়। একইভাবে বিপিএল হলে আমি আবার অপমানিত হব। এমন একটি মডেল তৈরি করতে হবে, যেটা সবার জন্য লাভজনক হয়। তাহলেই আমরা আবার আসব।”


ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু নিয়মিত আয়োজন নয়—বিপিএলকে একটি দীর্ঘমেয়াদি, পরিকল্পিত ও টেকসই টুর্নামেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে কাঠামোগত পরিবর্তন চান তারা। আর সেই সংস্কারের কাজ শেষ করতেই এবার বিপিএল আয়োজন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন অংশীজনেরা।