দ্রুত বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, আগেই খুলল ১৬ জলকপাট

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
দ্রুত বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, আগেই খুলল ১৬ জলকপাট

সূত্রঃ সংগৃহীত

রাঙামাটি প্রতিনিধি


রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।


শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার দিকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছে।


কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় আগে নির্ধারিত রাত ১০টার পরিবর্তে প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই জলকপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


জলকপাট খোলার সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল প্রায় ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। এর আগে শনিবার দুপুর ২টায় পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।


এর আগে দুপুরে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে রাত ১০টা থেকে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলার কথা জানানো হয়েছিল। তবে বিকেলের পর পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই জলকপাট খুলে দেওয়া হয়।


কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট দিয়ে বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।


কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ পরিবর্তন করা হতে পারে।


এবার দ্বিতীয় দফায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে অতিরিক্ত পানি ছাড়া হলো। এর আগে গত মাসেও হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল।


এদিকে স্পিলওয়ের গেট দিয়ে পানি ছাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।