ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসনাতের বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ, পরে দুঃখ প্রকাশ

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসনাতের বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ, পরে দুঃখ প্রকাশ

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উত্তেজনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বক্তব্যের প্রতিবাদে শহরের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতে বিক্ষোভ মিছিল করে তাঁর ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান।


ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিতর্কের একপর্যায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও একটি কনসার্টের প্রসঙ্গ তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।


এরপর তাঁর বক্তব্য নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদকারীরা তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান এবং ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত জেলায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা শুরু হয়।


তবে শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের বক্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানান, সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় তিনি দুঃখিত।


হাসনাত বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো—এমন মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দাবি, মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপানো এবং স্থানীয় আলেম-ওলামাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার বিষয়টি তিনি সংসদে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।


কনসার্ট বন্ধের প্রসঙ্গে হাসনাতের দাবি, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল। শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির পর পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।


এদিকে নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখের ক্ষেত্রে নিজের তথ্যগত ভুলও স্বীকার করেছেন হাসনাত। তিনি জানান, সিলেটের একটি বিষয় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বলে উল্লেখ করেছিলেন। এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং দুঃখিত।


পরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে হাসনাত বলেন, বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। প্রত্যেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী অংশ নেবেন এবং সরকারের দায়িত্ব হবে কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।


তিনি আরও বলেন, সরকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। জুলাইয়ের আদর্শ অনুযায়ী ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার অধিকার নিশ্চিত করে একটি সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।