হরিণ শিকারের প্রস্তুতি ভেস্তে দিল বন বিভাগ, উদ্ধার চার বস্তা ফাঁদ

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
হরিণ শিকারের প্রস্তুতি ভেস্তে দিল বন বিভাগ, উদ্ধার চার বস্তা ফাঁদ

সূত্রঃ সংগৃহীত

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:


সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতির অভিযোগে একটি ট্রলার জব্দ করেছে বন বিভাগ। এ সময় ট্রলার থেকে হরিণ ধরার চার বস্তা মালা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। তবে বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলারে থাকা ৬ থেকে ৭ জন শিকারি সুন্দরবনের ভেতরে পালিয়ে যায়।


শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পূর্ব সুন্দরবনের নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।


বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় একটি সন্দেহজনক ট্রলার দেখতে পেয়ে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়।


বনরক্ষীদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ট্রলারে থাকা ব্যক্তিরা দ্রুত ট্রলারটি সুন্দরবনের কিনারে ভিড়িয়ে দেন। পরে তারা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর সাগরের ঢেউয়ের চাপে ট্রলারটি অর্ধডুবে যেতে থাকলে বনরক্ষীরা সেটি উদ্ধার করে শেলারচরে নিয়ে যান।


পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে চারটি বস্তায় বিপুল পরিমাণ মালা ফাঁদ পাওয়া যায়। এসব ফাঁদ হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বন বিভাগ।


বনরক্ষীরা জানান, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সময় ককশীট ভর্তি বরফসহ শিকারিদের ব্যবহৃত আরও কিছু সরঞ্জাম সাগরে ভেসে যায়।


শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, হরিণ শিকারের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় একটি শিকারি চক্র মালা ফাঁদ ও ককশীট ভর্তি বরফ নিয়ে সাগরপথে সুন্দরবনের নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় যাচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে, বনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ হরিণ শিকার শুধু বন্যপ্রাণী নিধনের ঘটনা নয়, এটি সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিকারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।


এমকে/বিএম২৪