পদ্মা ব্যারাজে বদলাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি, সুফল পাবে ৭ কোটি মানুষ

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
পদ্মা ব্যারাজে বদলাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি, সুফল পাবে ৭ কোটি মানুষ

সূত্রঃ সংগৃহীত

জেলা প্রতিনিধি


রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ হলে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের ২৪ জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ এর সুফল পাবেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, নৌযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এর ফলে বদলে যাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনীতিও।


শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর কে রাজ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পানিসম্পদমন্ত্রী।


এর আগে বেলা ১১টার দিকে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ হারুনসহ সংশ্লিষ্টরা হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন।


জনসভায় পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ শুধু একটি বাঁধ বা অবকাঠামো নয়, এটি দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। ২৪ জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষের জীবন ও অর্থনীতির সঙ্গে এ প্রকল্পের সম্পর্ক রয়েছে।


তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ একটি বড় মেগা প্রকল্প। এটি বাস্তবায়িত হলে ২৪ জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে। কৃষিতে উৎপাদন বাড়বে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে এবং মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।


মন্ত্রী জানান, হাবাসপুর এলাকায় নদীভাঙনের কারণে পদ্মা নদী মানুষের বসতবাড়ির কাছে চলে এসেছে। বর্ষায় নদীর পানি ও প্রবল স্রোতে ভাঙন ও প্লাবন দেখা দেয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেয় পানির সংকট। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ বন্যা, নদীভাঙন ও পানির সংকটের সঙ্গে লড়াই করছেন।


পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি পানি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রকল্পটির কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে সমীক্ষার কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। ২০২৬ সালে এসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একনেকের অনুমোদন পেয়েছে।


সরকার পদ্মা ব্যারাজকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করছে জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির উদ্বোধন করতে পারেন।


প্রকল্পের আওতায় নেভিগেশন লক, বিভিন্ন ধরনের গেট ও পানি নিয়ন্ত্রণের অবকাঠামো থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হবে।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও গাইড বাঁধ থাকবে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।


এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মোট প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষি ও মাছের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলেও জানান মন্ত্রী।


গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলছে।


পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য


দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জলাবদ্ধতা কমানো, কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ হলে নদীভাঙন, বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমের পানির সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সাময়িকভাবে মানুষের কিছুটা কষ্ট হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল অনেক বেশি হবে।


প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করে মন্ত্রী বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সহযোগিতায় আগামী দিনে পদ্মা ব্যারাজকে দৃশ্যমান করা হবে।


উল্লেখ্য, গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি হিসাবে প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প ব্যয় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়কাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত।


এমকে/বিএম২৪