সিংগাইরে গণ ধ র্ষ ণের শিকার নারী, শিশু ধ র্ষ ণের অভিযোগে চাচা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
সিংগাইরে গণ ধ র্ষ ণের শিকার নারী, শিশু ধ র্ষ ণের অভিযোগে চাচা গ্রেপ্তার

সূত্রঃ সংগৃহীত

সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি


মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে এবং দুই বছর চার মাস বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গণধর্ষণের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা নীরবকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


গ্রেপ্তার নীরব উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের তেলিখোলা গ্রামের ফরশেদ আলীর ছেলে।


বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, গণধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চলছে।


থানা সূত্রে জানা গেছে, বলধারা ইউনিয়নের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী এক নারী গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্বামীর সঙ্গে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে বাড়ির অদূরে টিউবওয়েলের পাশে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক ধরে মুখ চেপে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ির পূর্ব দিকে নিয়ে যান। পরে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে কয়েকজন মিলে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর তার হাত-পা বেঁধে এবং মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে তাকে সেখানে ফেলে রেখে যান অভিযুক্তরা। পরে তার চাচা-শ্বশুর তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান বলে জানা গেছে।


ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের সবার মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল। তাদের পরনে ফুলপ্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট ছিল। তাদের বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ২৫ বছর হতে পারে।


মরিচের গুঁড়ার কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি ২২ সেপ্টেম্বর সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে তাকে পুলিশি হেফাজতে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।


এদিকে, উপজেলার তেলিখোলা এলাকায় দুই বছর চার মাস বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে তার আপন ছোট ভাই ও শিশুটির চাচা নীরবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।


এজাহারে বলা হয়, গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে শিশুটির বাবা কাজে চলে যান। এ সময় তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বাড়িতে ছিলেন। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে শিশুটিকে তার চাচা নীরব পাশের দাদার বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দুপুরের দিকে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে তার মা সেখানে গেলে নীরবকে ঘর থেকে বের হতে দেখেন। শিশুটির শারীরিক ও আচরণগত অবস্থায় সন্দেহ হলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান তিনি।


এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শিশুটিকে প্রথমে একটি বেসরকারি ক্লিনিক ও পরে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রেজাউল করিম বলেন, ভুক্তভোগী নারীকে পুলিশি হেফাজতে ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। গণধর্ষণ মামলার আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


এমকে/বিএম২৪