পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে জোর করে বিষপান করিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ এএম
পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে জোর করে বিষপান করিয়ে হত্যার অভিযোগ

সূত্রঃ সংগৃহীত

মো. শফিকুল ইসলাম নাঈম, মাদারীপুর প্রতিনিধি


মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুড়াইল ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক গৃহবধূকে জোর করে বিষপান করিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও স্বামীর কথিত প্রেমিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামী ঝিনু কাজী, কথিত প্রেমিকা শারমিন আক্তার ও শারমিনের বাবা নান্নু সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।


বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম লাবনী আক্তার।


নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী ঝিনু কাজীর সঙ্গে পাশের বাড়ির শারমিন আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগ ছিল লাবনীর পরিবারের। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় গত প্রায় এক বছর ধরে লাবনী ও তার স্বামীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো বলেও দাবি স্বজনদের।


পরিবারের অভিযোগ, এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোররাতে ঝিনু কাজী, শারমিন আক্তার ও তার বাবা নান্নু সরদার লাবনীর ঘরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক লাবনীকে বিষপান করান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


বিষপানের পর লাবনী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা খবর পান। পরে তার মা, ভাই-বোন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


লাবনীর মৃত্যুর পর তার স্বজনরা অভিযোগ করেন, তিনি স্বেচ্ছায় বিষপান করেননি; বরং তাকে জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে পরিবারের এই অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাবনীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের বিষয়ে ঝিনু কাজী, শারমিন আক্তার ও নান্নু সরদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।