শ্যালিকাকে বিয়ের পর বিতর্ক, অবশেষে মাসুদকে তালাক দিলেন পূর্ণিমা
সংগৃহীত
জেলা প্রতিনিধি
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই আপন ছোট বোনকে (শ্যালিকা) বিয়ে করে দেশজুড়ে বিতর্কের জন্ম দেওয়া নওগাঁর আলোচিত মাসুদের দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা তাকে আইনগতভাবে তালাক দিয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তালাকনামার ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাসুদ নিজেই।
এদিন ফেসবুক লাইভে এসে নিজেদের ভুল স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি। মাসুদ জানান, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী একই সঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করা বৈধ নয়—এ বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। না বুঝেই তারা ভুলটি করেছিলেন। পরে সেই ভুল সংশোধন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মাসুদ আরও জানান, পূর্ণিমার সঙ্গে তার আইনগতভাবে বিচ্ছেদ হয়েছে। বর্তমানে তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমীই একমাত্র স্ত্রী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন। তালাকের প্রমাণ প্রকাশের পর এ ঘটনা নিয়ে আর কোনো পোস্ট না করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য নিজের পরিবারসহ সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এর আগে গত ২৪ অক্টোবর নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবীর সহকারী মাসুদ প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে তার আপন শ্যালিকা পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন। পরদিন দুই স্ত্রীকে নিয়ে ছবি ও টিকটক ভিডিও প্রকাশ করলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৬ অক্টোবর রাতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন মাসুদের মুখে চুন-কালি মেখে তাকে এলাকা থেকে বের করে দেন বলে জানা যায়। পরদিন (২৭ অক্টোবর) মাসুদের শ্বশুরবাড়ির উঠানে স্থানীয় মাতবরদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গ্রামবাসীর সামনে মাসুদের শ্বশুর মান্নান সাপুরে ও তার ছোট মেয়ে পূর্ণিমা হাত জোড় করে ক্ষমা চান।
ওই দিনই ফেসবুক লাইভে এসে মাসুদ দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার পূর্ণিমা আইনগতভাবে তাকে তালাক দেন।
এমকে/বিএম২৪









