শিশুকে ধর্ষণ-হত্যার আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া, তুলে নেওয়া হচ্ছে মাটিও

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
শিশুকে ধর্ষণ-হত্যার আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া, তুলে নেওয়া হচ্ছে মাটিও

সংগৃহীত

 জেলা প্রতিনিধি


পাবনার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এবার বাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মাটিও কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির স্বজনেরা।


গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্তও সেখানে ভাঙার কাজ চলতে দেখা গেছে।


শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা বাড়িটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িটির অস্তিত্ব বোঝার মতো কোনো চিহ্নও অবশিষ্ট নেই। মাটির নিচে থাকা ভিত্তির রড পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইট ও বালু গাড়িতে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


বাড়ির মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সলিম প্রামাণিক বলেন, মোস্তফা যে অপরাধ করেছে, তার শাস্তি হিসেবে তাঁর বাড়িটি রাখা হয়নি। এখন বাড়ির মাটি কেটে রাস্তা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে পুকুর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।


বাড়ি ভাঙার কাজে অংশ নেওয়া আতাইকুলার মাধপুর এলাকার রুবেল হাসান বলেন, অভিযুক্তের বাড়ির কোনো চিহ্ন রাখা হবে না। ইট তো দূরের কথা, এক মুঠো বালুও এখানে রাখা হবে না। এখানে পুকুর তৈরি করা হবে, যাতে এটি ধর্ষকের পরিণতির নিদর্শন হয়ে থাকে।


এদিকে বাড়ি ভাঙার কাজ প্রায় শেষ হলেও মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন নিহত শিশুটির স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে হবে এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।


শিশুটির দাদা আব্দুস সোবহান বলেন, এখনো অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। এত দিনে তা জমা দেওয়া উচিত ছিল। প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।


শিশুটির আরেক স্বজন রমজান আলী বলেন, দোতলা বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাড়ির কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। অথচ মামলার কাগজপত্রের কাজ এখনো শেষ হয়নি বলে তাঁরা শুনছেন। তাঁদের একটাই দাবি—একটি শিশুর ধর্ষণের ঘটনা যেন টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা না পড়ে। পুলিশ প্রশাসনকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।


এ বিষয়ে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, মামলার তদন্তে অগ্রগতি হচ্ছে। ফরেনসিক প্রতিবেদন হাসপাতালে এসে পৌঁছাচ্ছে। দ্রুতই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।


প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ৯ সেপ্টেম্বর মাগরিবের পর মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।


পুলিশ আরও জানায়, ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই শিশুটিকে খোঁজার কাজে অংশ নিয়েছিলেন। রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ইয়াছিন ধর্ষণ ও হত্যার কথা অস্বীকার করে হত্যার পর সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় উদ্ধার করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এমকে/বিএম২৪