রক্তাক্ত ৫ আগস্ট: সাভারের রাজপথে সংঘর্ষের বিভীষিকা
সূত্রঃ ফাইল ছবি
সাভার প্রতিনিধি:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদফা দাবি ঘিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির দিন সাভারজুড়ে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল পুরো এলাকা। ওই দিনের সহিংসতায় কয়েকজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। দুই বছর পরও সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি বহন করছে সাভারের রাজপথ।
সকালের দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরে তারা ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে সাভারে পৌঁছালে পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেয়।
পুলিশের বাধার মুখেও আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নিলে সাভার নিউ মার্কেটের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে শ্রাবণ গাজী নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হন। এছাড়া অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন।
দুপুরে সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করে। পুলিশ পিছু হটলে আন্দোলনকারীরা এগিয়ে যান সাভার মডেল থানার দিকে। এ সময় সাভার প্রেসক্লাবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে থানার দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ আবারও গুলি চালায়। তবে আন্দোলনকারীরা সাভার সরকারি কলেজের সামনে অবস্থান নেন।
দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ সময় সাভার পাবলিক লাইব্রেরি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার দিকে অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিলে পুলিশ কিছু সময়ের জন্য থানার ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে আবার বের হয়ে গুলিবর্ষণ করলে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন।
ওই দিনের ঘটনায় আব্দুল আহাদ সৈকত, মো. হৃদয় আহমেদ, আলামিন হোসেন ও মিঠু বিশ্বাস মারুফসহ কয়েকজন নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা সাভার বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের দিকে সরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক সেলিম আহম্মেদ জানান, ৪ আগস্ট থেকেই সাভারে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীরা থানা রোডে অবস্থান নিলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে গুলিতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী বলেন, তাঁর ছেলে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল। সাভার নিউ মার্কেট এলাকায় পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে সে গুরুতর আহত হয়। পরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আন্দোলনে আহত মনঞ্জয় জানান, সাভার থানার সামনে পুলিশের গুলিতে তার হাত গুরুতর জখম হয়। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয়।
এদিকে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) জাহাঙ্গীর আলম জানান, কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাভার ও ধামরাই এলাকায় শতাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমকে/বিএম২৪









