মেরুদণ্ডের সুস্থতা রক্ষায় সচেতনতার বিকল্প নেই: ডা. শাহাদাত
ছবি: বিডি মেইল
মো. কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
মেরুদণ্ডের সুস্থতা রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং সময়মতো আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেছেন, মেরুদণ্ড মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরের ভারসাম্য রক্ষা, দাঁড়ানো, বসা ও চলাফেরার পাশাপাশি মেরুরজ্জু ও গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অপরিসীম। মেরুদণ্ডের সুস্থতার সঙ্গে মানুষের কর্মক্ষমতা, আত্মনির্ভরতা ও সামগ্রিক জীবনমান গভীরভাবে জড়িত।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) লোয়ার কনফারেন্স হলে বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Support Your Spine for Life’—অর্থাৎ, সারা জীবন মেরুদণ্ডের যত্ন নিন ও সুস্থ রাখুন।
মেয়র বলেন, অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, আঘাত, বয়সজনিত পরিবর্তন ও বিভিন্ন রোগের কারণে মেরুদণ্ডে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী পিঠ ও কোমরব্যথা, ঘাড়ব্যথা, ডিস্ক প্রলাপস বা পিএলআইডি, স্পাইনাল স্টেনোসিস, মেরুদণ্ডের যক্ষ্মা, অস্টিওপোরোসিসজনিত হাড় ভেঙে যাওয়া এবং স্কোলিওসিস ও কাইফোসিসের মতো সমস্যায় অনেক মানুষ ভুগছেন।
এসব সমস্যার কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়, কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং রোগী ও তাঁর পরিবারের ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতারও কারণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মেরুদণ্ডের অনেক সমস্যা প্রতিরোধে সচেতন জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা, ভুল দেহভঙ্গি, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজন এবং অনিরাপদভাবে ভারী বস্তু তোলার অভ্যাস মেরুদণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, বসা ও দাঁড়ানোর সময় সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখা, স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার ক্ষেত্রে নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী হাড়ের যত্ন নেওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মেয়র বলেন, বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবসের তাৎপর্য শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে মেরুদণ্ডের যত্ন নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মেরুদণ্ডের রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয়, আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করাও এ দিবসের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. জসিম উদ্দীন ও উপাধ্যক্ষ ডা. মো. আনিসুল হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. মাজেদ সুলতান ও ডা. আরাফাত রহমান।
ডা. এম. ফারুক মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্য, বিভিন্ন রোগ, রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা দেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অর্থোপেডিক্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইমরোজ উদ্দিন। আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন ডা. সিরাজুন মনির ওহী এবং ডা. মাহমুদুল হাসান।
অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনসহ অর্থোপেডিক্স, নিউরোসার্জারি, নিউরোমেডিসিন ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ক্রিকেট ম্যাচের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।









