বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির দুই শিক্ষার্থী, পাচ্ছেন ১ লাখ টাকা

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির দুই শিক্ষার্থী, পাচ্ছেন ১ লাখ টাকা

সংগৃহীত

কামরুল হাসান কাব্য, বেরোবি প্রতিনিধি


বাঁশপাতা দিয়ে চা তৈরির উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে দেশসেরা হয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী মাহিদ ও আজিজ। ‘ইকো লিডার্স বুট ক্যাম্প’-এর অষ্টম কোহর্টে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তাঁরা। এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের উদ্যোগের জন্য দেওয়া হবে এক লাখ টাকা অর্থায়ন।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মোহাম্মদপুরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আবাসিক বুট ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ অর্জন করেন তাঁরা। দ্য আর্থ সোসাইটির আয়োজনে এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত এ বুট ক্যাম্পে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে অংশ নেন।


মাহিদ ও আজিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব ও সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য তৈরির চিন্তা থেকেই বাঁশপাতার চা নিয়ে কাজ করার ধারণা তাঁদের মাথায় আসে। বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক উপাদাননির্ভর পণ্যের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা বাঁশপাতাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেন। পরে এ ধারণা নিয়ে প্রতিযোগিতায় আবেদন করেন তাঁরা। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিন দিনের আবাসিক বুট ক্যাম্পে নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে প্রথম স্থান অর্জন করেন।


উদ্যোক্তাদের মতে, বাঁশপাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, সিলিকা ও পটাশিয়ামের মতো উপাদান রয়েছে। এসব উপাদানের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা বাঁশপাতার চা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এই ধারণাকে পরিবেশবান্ধব এবং বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় পণ্যে রূপ দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।


বুট ক্যাম্পে বিচারক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিলিভারের প্রধান, গ্রিন ভয়েসের প্রধান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের একজন প্রতিনিধি এবং দ্য আর্থ সোসাইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।


মাহিদ ও আজিজের এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। এক লাখ টাকার অর্থায়ন কাজে লাগিয়ে নিজেদের উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে চান তাঁরা।


তবে বাঁশপাতার চায়ের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পরীক্ষাগারভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।


এমকে/বিএম২৪