পটুয়াখালীতে বাসের সঙ্গে অটোরিকশা সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৪

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
পটুয়াখালীতে বাসের সঙ্গে অটোরিকশা সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৪

সূত্রঃ সংগৃহীত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি


পটুয়াখালীতে বাস দুর্ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি তোলার পর খাদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।


রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।


এরআগে, রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন, গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের রাজ্জাক প্যাদার ছেলে কাইউম প্যাদা (৫০), একই উপজেলার চার আনি বাউরিয়া গ্রামের অনিল হাওলাদারের মেয়ে শিল্পী রানী (৪০) ও বদরপুর গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৫) এবং বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের ধীরেন মিস্ত্রীর মেয়ে তিথী (২৩)।


নিহতদের মরদেহ বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইমরান ট্রাভেলসের একটি বাস ধলু গাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, নিহত তিনজনই অটোরিকশাটির যাত্রী ছিলেন। এরপর উদ্ধার অভিযানে সেখানে আরও একজনের মরদেহ পাওয়া যায়।


স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি পানিতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঝপ্পোড়াইয়া (ঝপ শব্দে) কিছু একটা পড়ার শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে ছুটে আসি, এসে দেখি বাস পড়ে আছে। এর নিচে অটো চাপা পড়ে আছে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।


পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। বাসের ভিতরে কেউ আটকে পড়েছেন কিনা অথবা পানির ভেতরে আর কোনো মরদেহ আছে কিনা এজন্য উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।