ন্যানো ফিশফিডের পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবি অধ্যাপক, কমতে পারে আমদানিনির্ভরতা

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
ন্যানো ফিশফিডের পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবি অধ্যাপক, কমতে পারে আমদানিনির্ভরতা

ছবি: সংগৃহীত

সাকিবুল ইসলাম, যবিপ্রবি প্রতিনিধি


অতি ক্ষুদ্র খনিজ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ ‘ন্যানো ফিশ ফিড’ তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে পেটেন্ট পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও ন্যানো ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড এনার্জি (NAME) ল্যাবের পরিচালক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। তাঁর উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হলে মাছের খাদ্য উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি খাদ্যের অপচয় ও পরিবেশদূষণও হ্রাস পেতে পারে।


গত ১ নভেম্বর (রোববার) বাংলাদেশ পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) থেকে দেওয়া ‘নোটিশ অব গ্র্যান্ট’-এর মাধ্যমে পেটেন্ট অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পেটেন্ট সিরিয়াল নম্বর ১০০৭১৮৮। এর শিরোনাম ‘A Formulation Process of Smart Nano-Micro Size Fish Feed with Vitamins’।


অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান জানান, মাছের খাদ্যে আয়রন, জিংক, কপার ও সেলেনিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান এবং ভিটামিন অতি ক্ষুদ্র আকারে মিশিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য এ পেটেন্ট পেয়েছেন তিনি। এ পদ্ধতিতে পুষ্টি উপাদান মাছের শরীরে সহজে কাজে লাগবে বলে আশা করছেন তিনি।


আবিষ্কারটির কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে এই গবেষক বলেন, মাছ খাদ্যের সব পুষ্টি উপাদান কাজে লাগাতে পারে না। অব্যবহৃত অংশ পুকুরের পানিতে জমে বর্জ্যে পরিণত হয়। অন্যদিকে মাছ চাষের সবচেয়ে বড় ব্যয় খাদ্য। একই পরিমাণ খাদ্য থেকে মাছ বেশি পুষ্টি পেলে চাষির উৎপাদন খরচ কমতে পারে এবং পুকুরের পানিদূষণও হ্রাস পেতে পারে।


তিনি আরও বলেন, দেশের মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও নিউট্রিয়েন্ট বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ভারত থেকে আমদানি করে। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। ন্যানো প্রযুক্তিনির্ভর এ ফর্মুলেশন ব্যবহার করা গেলে অল্প পরিমাণ উপাদান দিয়েই অধিক কার্যকারিতা পাওয়া সম্ভব হবে। এতে খাদ্যের অপচয় কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপ কমবে এবং মাছের গুণগত মান উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে।


প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান বলেন, এ প্রযুক্তি প্রয়োগের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে না। প্রচলিত ফিড মিলগুলোতে মাছের খাদ্য তৈরির সময় অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের সঙ্গে এটি মিশিয়ে দেওয়া যাবে। ফলে নারিশ, কাজী ফার্মস কিংবা আফিলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে সহজেই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ প্রযুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।


উল্লেখ্য, এর আগে গত অক্টোবর মাসে ন্যানো ইউরিয়া আবিষ্কারের জন্য প্রথম পেটেন্ট পেয়েছিলেন অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। ‘ন্যানো ফিশ ফিড’ তাঁর দ্বিতীয় পেটেন্ট অর্জন।