নাসিরনগরে দেশীয় মাছের শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা
ছবি: সংগৃহীত
খ. ম. জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
হাওরবেষ্টিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় দেশীয় মাছের শুঁটকি উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। বিশেষ করে দেশীয় পুঁটি মাছের শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ মৌসুমে উৎপাদন বেড়েছে।
চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুঁটকি উৎপাদনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন জেলেরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাংকুলপাড়া এলাকায় লংগন নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি শুঁটকি তৈরির মাচা। এসব মাচায় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রক্রিয়াজাত করে শুকানো হচ্ছে।
শুঁটকি উৎপাদনের কাজে এখানে প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক রাতদিন কাজ করছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করে প্রাকৃতিকভাবে শুঁটকি তৈরি করা হয় বলে এখানকার শুঁটকির সুখ্যাতি রয়েছে দেশ-বিদেশে।
কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে এসব শুঁটকি কিনে নিয়ে যান।
উপজেলার বিল বালিঙ্গা, মেদির হাওর, আটাউরি, উত্তর বাল্লা, আগাইড় হাওর, শাপলা বিল ও আকাশি বিলের মিঠাপানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দিয়ে তৈরি হচ্ছে এসব শুঁটকি। এর মধ্যে রয়েছে শোল, গজার, বোয়াল, গোলসা, টেংরা, বাইম, পুঁটি, হালুনি ও চান্দাসহ নানা দেশীয় মাছ।
তবে অন্যান্য মাছের তুলনায় পুঁটি মাছের শুঁটকি বেশি তৈরি হচ্ছে। এসব পুঁটি মাছ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় ভোজনরসিকদের কাছে জনপ্রিয় মুখরোচক ও দামি খাবার চ্যাঁপা শুঁটকি।
শুঁটকি ব্যবসায়ী শুধাংসু দাস জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো মানের শুঁটকি তৈরি হচ্ছে। এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেক জেলেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
তিনি আরও জানান, আশ্বিন মাস থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত শুঁটকি উৎপাদনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। এ সময় শত শত নারী-পুরুষ শুঁটকি তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন। মৌসুমে তিনি গড়ে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেন। তাদের উৎপাদিত শুঁটকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যায়।
নাসিরনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহিমুল আরেফিন বলেন, শুঁটকি ব্যবসায়ীরা কীভাবে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে শুঁটকি তৈরি করবেন, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ উদ্যোগ থেকে ভালো সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।









