দোয়ার মাহফিলের দাওয়াতে ডেকে ‘হানি ট্র্যাপ’, মাদরাসা শিক্ষককে জিম্মি করে চাঁদাবাজি

প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
দোয়ার মাহফিলের দাওয়াতে ডেকে ‘হানি ট্র্যাপ’, মাদরাসা শিক্ষককে জিম্মি করে চাঁদাবাজি

সূত্রঃ সংগৃহীত

রাজশাহী ব্যুরো


মাদরাসা শিক্ষককে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, অতঃপর সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়—রাজশাহীতে এমনই একটি সুসংগঠিত হানি ট্র্যাপ চক্রের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মাদরাসা শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা (৫২) এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন। তিনি জানান, চক্রটি প্রথমে এক নারীর মাধ্যমে ফোনে দোয়ার মাহফিলের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁকে নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায়, তারপর জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি করা হয়।


ভুক্তভোগীর বর্ণনায় উঠে আসে ভয়ংকর এক ফাঁদের গল্প। গত ১৯ জানুয়ারি রাতে ফোনে আমন্ত্রণ পেয়ে সরল বিশ্বাসে তিনি এয়ারপোর্ট থানার একটি দোতলা বাড়িতে যান। সেখানে এক নারী ও এক পুরুষ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৪-৫ জন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক তাঁর পোশাক খুলে ফেলে এবং মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। এরপরই শুরু হয় ব্ল্যাকমেইলের খেলা। ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।


এই ধরনের ফাঁদকে অপরাধের ভাষায় বলা হয় 'হানি ট্র্যাপ'—যেখানে নারী বা প্রলোভনের মাধ্যমে কাউকে আপত্তিকর অবস্থায় ফেলে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়, পরে সেই ভিডিও ব্যবহার করে চাঁদা আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য হাসিল করা হয়। রাজশাহীতে এমন চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও।


গোলাম মোস্তফা জানান, ঘটনার দিন তিনি কৌশলে ছেলেকে ফোন দিলে পরিবার পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ আসছে জানতে পেরে চক্রটি তাঁকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু থানায় অভিযোগ দায়েরের পরও দীর্ঘ আট মাস কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টো গত ২ সেপ্টেম্বর চক্রটি আবারও সক্রিয় হয়। 'ডিবি পুলিশ' পরিচয় দিয়ে ফোন করে আবারও টাকা দাবি করা হয়। চপল, শাহীন সাগর ও রাজিব নামের ব্যক্তিরা বারবার ফোন ও দেখা করার চাপ দেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।


ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, "যে চক্র আমাকে ফাঁদে ফেলেছে, তাদের ধরতে পুলিশ এত সময় নিচ্ছে কেন? নাকি কারও মদদে চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে?" তার দাবি, ভিডিওটি বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায় এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত হানি ট্র্যাপ। তিনি চক্রটির মূল হোতা চপলসহ জড়িত সবার দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


এয়ারপোর্ট থানার ওসি এ বিষয়ে জানান, তদন্ত চলছে। চক্রের সদস্যদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তবে তদন্তে ধীরগতির কারণে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, হানি ট্র্যাপের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের সাইবার ইউনিট ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো জরুরি।



এমকে/বিএম২৪