তালতলীতে ইউরিয়া সারের সংকট, অতিরিক্ত দামেও মিলছে না সার
সংগৃহীত
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার তালতলী উপজেলায় ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দিনের পর দিন ডিলারদের পেছনে ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এ সুযোগে একটি চক্র অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দ্রুত পর্যাপ্ত সার সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, চলতি বছর তালতলী উপজেলায় আমন ধানের জমি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ১৬০ হেক্টর। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে লক্ষ্যমাত্রার জমিতে আমন ধান রোপণ শেষ হয়। ধান রোপণের কয়েক দিনের মধ্যেই জমিতে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে সারের চাহিদা বেড়ে গেলেও অক্টোবর মাসে উপজেলায় ১৩৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ওই সার বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বিসিআইসি সার ডিলার খলিলুর রহমান ও নান্নু খান জানান, বরাদ্দ পাওয়া সার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এরপরও সারের চাহিদা থাকলেও নতুন করে সরবরাহ না থাকায় কৃষকদের সার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গত প্রায় ১০ দিন ধরে তালতলীতে ইউরিয়া সারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কৃষকরা দিনের পর দিন ডিলারদের কাছে ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। উপযুক্ত সময়ে জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে না পারলে আমন ধানের ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সোমবার তালতলী উপজেলার ছোটবগী, পঁচাকোড়ালিয়া, বড়বগী ও শারিকখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষক সার সংগ্রহের জন্য ডিলারদের কাছে ছুটছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পেয়ে তাদের হতাশ হয়ে ফিরতে দেখা যায়।
পশ্চিম গাবতলী গ্রামের কৃষক মো. ইসহাক হাওলাদার বলেন, তিনি ১ হাজার ৬৫০ টাকা বস্তা দরে ১৫ বস্তা ইউরিয়া সার কিনেছেন। তার জমির জন্য আরও ১৫ বস্তা সার প্রয়োজন হলেও এখন তা পাচ্ছেন না।
গাবতলী গ্রামের কৃষক মাছুম মোল্লা বলেন, সাত দিন ধরে তিনি সার পাচ্ছেন না। সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে আমনের ফলন ভালো হবে না। তিনি খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা বস্তা দরে তিন বস্তা সার কিনেছেন। আরও সার প্রয়োজন হলেও এখন পাচ্ছেন না।
কলারং গ্রামের কৃষক গোলাম ফারুক বলেন, প্রায় ১০ দিন ধরে তিনি ইউরিয়া সার পাচ্ছেন না।
কচুপাত্রা গ্রামের কৃষক নাছির মুন্সি বলেন, তার ১৫ বস্তা সার প্রয়োজন হলেও পেয়েছেন মাত্র পাঁচ বস্তা। প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও পাচ্ছেন না। সময়মতো জমিতে সার দিতে না পারলে আমনের ফলন ভালো হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মো. নান্নু খান বলেন, অক্টোবর মাসে তিনি ১৯ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছেন। সার পাওয়ার পর তা দ্রুত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তবে গত সাত দিন ধরে তার কাছে কোনো সার নেই। ফলে কৃষকরা সার নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
বড়বগী ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মো. খলিলুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় অক্টোবর মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ কম দেওয়া হয়েছে। বড়বগী ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৭০ মেট্রিক টন, কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ২০ মেট্রিক টন। ফলে সারের সংকট তৈরি হয়েছে।
তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু জাফর বলেন, যেসব এলাকায় সারের সংকট তৈরি হয়েছে, সেসব এলাকার জন্য অতিরিক্ত সার বরাদ্দ এনে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি অতীশ সরকার বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে দ্রুত সার সংকট সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমকে/বিএম২৪









