তাজমিন হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
তাজমিন হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


পুলিশ জানায়, তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন সুমন। তার কাছে কোনো মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না। এমনকি আঙুলের ছাপযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রও ছিল না। এসব কারণে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জানা যাবে।


গ্রেপ্তার সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার তাজুল ইসলামের মেয়েকে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। তিনি বাগমারা এলাকার মনির হোসেনের মালিকানাধীন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়ায় চালাতেন।


এর আগে গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল না।


পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। তার বাবা আব্দুল আলিম কুমিল্লায় রেনেটা ওষুধ কোম্পানির আঞ্চলিক কার্যালয়ে চাকরি করেন। পরিবারটি নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে।


গত ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে তাজমিনকে সর্বশেষ দেখা যায়। পরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠায় সে। তবে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পাননি।


পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করে পুলিশ।


এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।


এমকে/বিএম২৪