বুটেক্সের ডাই-কেম এক্সপো শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭ এএম
বুটেক্সের ডাই-কেম এক্সপো শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

ছবি: বিডি মেইল

বুটেক্স প্রতিনিধি


বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ওয়েট প্রসেস ক্লাবের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বুটেক্স-আইটিইটি ডাই-কেম এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।


এক্সপোর দ্বিতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আধুনিক ডাইং শিল্পের চ্যালেঞ্জ, পণ্যের গুণগত মান এবং উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয় নিয়ে প্যানেল আলোচনা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ‘ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস ইন মডার্ন ডাইং: ইন্ডাস্ট্রি চ্যালেঞ্জেস, কোয়ালিটি অ্যান্ড কস্ট অপ্টিমাইজেশন’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।


আলোচনায় সঞ্চালক ছিলেন টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ মো. মামুন কবির। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মাইক্রোফাইবার গ্রুপের টেকনিক্যাল ও মার্কেটিং পরিচালক প্রকৌশলী মো. মুখলেছুর রহমান খান, আহসান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম রেজা, এম. এন. ডাইং ও মোশাররফ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম লিটন, মাসকো গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার রেজাউল হাসান এবং ইম্পেরিয়ালের উপদেষ্টা তারিক উল ইসলাম।


পরে অনুষ্ঠিত হয় পোস্টার উপস্থাপনা পর্ব। এতে শিক্ষার্থীরা টেক্সটাইল কেমিস্ট্রি, পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্প ও ধারণা তুলে ধরেন।


এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইটিইটি বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন, মহাসচিব প্রকৌশলী এ. এস. এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন এবং সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম।


প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “আজকের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কেমিক্যাল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সেতুবন্ধন তৈরি করছে, যা তাঁদের কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। আমরা সবাই মিলে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। দেশপ্রেম ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছি। সরকার জনগণের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালনে সংকল্পবদ্ধ। কারণ, আমরা ক্ষমতার চেয়ে দায়বদ্ধতা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিই।”


সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম বলেন, “দায়িত্বশীল শিল্পায়নের লক্ষ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে আমার বৃহত্তর দায়বদ্ধতা রয়েছে। শিল্পের উন্নয়ন এখন শুধু উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই টেক্সটাইল উৎপাদন যুক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা যেন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কাজে লাগে, একইভাবে শিল্পের সমস্যাগুলোও যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বিষয় হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা ও পরিশ্রমের মানসিকতাই হবে আগামী বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের মূল ভিত্তি।”


আইটিইটি বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন বলেন, ভবিষ্যতেও বুটেক্সের বিভিন্ন ক্লাব, বিশেষ করে ওয়েট প্রসেস ক্লাবের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখবে আইটিইটি। তাঁর মতে, প্রদর্শনীটি আয়োজন ও উপস্থাপনার দিক থেকে আন্তর্জাতিক ‘আইটিএমএ’ এক্সপোর মতোই জাঁকজমকপূর্ণ ও আকর্ষণীয় হয়েছে।


এ ছাড়া বুটেক্সের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে উপাচার্যের যেকোনো উদ্যোগে আইটিইটির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।


আইটিইটি বাংলাদেশের মহাসচিব প্রকৌশলী এ. এস. এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন বলেন, “বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শুধু ডাইং ও টেক্সটাইল কেমিক্যালের ওপর এ ধরনের দুই দিনব্যাপী এক্সপো অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের শিল্পের সর্বশেষ উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে। টেক্সটাইল প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খাপ খাওয়ানো এবং আধুনিক জ্ঞান নিয়ে ভবিষ্যতে শিল্পে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তকের বাইরের এ ধরনের শিল্প-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সংযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমদানি নির্ভরতা কমাতে ও উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয় করতে দেশেই ডাইস ও কেমিক্যাল তৈরির জন্য একটি ‘কেমিক্যাল ভিলেজ’ গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিদেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানি না করে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হলে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে প্রতিবছর বিদেশে চলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে তা দেশের অর্থনীতিতে রাখা সম্ভব হবে।”


সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ এক্সপোর সমাপ্তি ঘটে। টেক্সটাইল শিল্পের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া এবং টেকসই টেক্সটাইল শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।


এমকে/বিডিমেইল২৪