জুলাই আন্দোলনের ভূমিকা ও নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী সুমন
সংগৃহীত
সিজান হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা, আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানো এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরতে সহযোগিতার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনায় এসেছেন সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী এম এ হোসেন সুমন। শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা, আবাসন, ক্যান্টিন, ভাষা শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।
সুমনের দাবি, জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি আহত হলেও সরকার থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেননি। আন্দোলন চলাকালে আহত ও বিপদগ্রস্ত আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রায় শতাধিক আন্দোলনকারীকে সেবা ও সহযোগিতা করেছেন তিনি।
তিনি জানান, আন্দোলনের সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরতে আল-জাজিরা, বিবিসি ও সিএনএনের মতো সংবাদমাধ্যমের কাছে ইংরেজিতে বিভিন্ন তথ্য ও বার্তা পাঠিয়ে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণে ইংরেজি ভাষায় ফেসবুক ও ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচার করেছেন। অনলাইনের পাশাপাশি আন্দোলনের মাঠে সরাসরি উপস্থিত থেকেও বিভিন্ন ঘটনা প্রচারের চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।
আন্দোলন চলাকালে একাধিকবার পুলিশ তাঁকে আন্দোলনস্থল থেকে আটক করে নিয়ে গেছে বলেও দাবি করেন সুমন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগে চাকরিজীবনেও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রায় ছয় মাস পর জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনের আরেকটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সুমন জানান, ২০২৬ সালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটার হওয়ার পরদিন তিনিও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন। তাঁর বয়স ৩৩ বছরের বেশি হলেও এর আগে ভোটার হওয়ার সুযোগ হয়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন এম এ হোসেন সুমন। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করা, কলেজের ক্যান্টিন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আবাসন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
এ ছাড়া ইংরেজি, জাপানি, জার্মানিসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শেখার জন্য পৃথক ভাষা শিক্ষা ভবন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে ভাষা শিক্ষার বিকল্প নেই। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্যান্য বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক বিকাশের বিষয়টিও তাঁর পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে। এ লক্ষ্যে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক ব্যায়ামাগার (জিমনেসিয়াম) স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় কার্যক্রমের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কলেজের মসজিদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সুমনের মতে, একজন শিক্ষার্থীকে শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বরং ভাষাগত দক্ষতা, শারীরিক সুস্থতা, নৈতিক ও ধর্মীয় চর্চা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তাঁর প্রচারণার পোস্টারে ছাত্রদলের মূলনীতি হিসেবে ‘শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতি’ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি স্লোগান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রাজপথ শুধু চলার পথ নয়, এটি কখনো কখনো ইতিহাস গড়ার পথ।’
জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সামনে রেখে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন এম এ হোসেন সুমন। তাঁর এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এমকে/বিএম২৪









