গ্যাসের চাপ বাড়ায় কালিয়াকৈরের পোশাক কারখানায় ফিরেছে উৎপাদনের গতি

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
গ্যাসের চাপ বাড়ায় কালিয়াকৈরের পোশাক কারখানায় ফিরেছে উৎপাদনের গতি

সূত্রঃ সংগৃহীত

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি


দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের পর গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পোশাক কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় উৎপাদনে গতি ফিরতে শুরু করেছে। বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি সচল হওয়ায় কারখানাগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর জমে থাকা অর্ডারের কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।


তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরলেও গত কয়েক মাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আরও সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাংক থেকে আর্থিক সহযোগিতা এবং বকেয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চান তারা।


শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় বাণিজ্য সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ইপিজেডসহ গাজীপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক ও কালিয়াকৈর এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানার অধিকাংশই তৈরি পোশাক খাতের। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ শ্রমিক কাজ করেন।


সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক মাসের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট শিল্পকারখানার উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। একটি কারখানায় যেখানে গড়ে ১০ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন, সেখানে অনেক সময় মাত্র ১ থেকে দেড় পিএসআই পাওয়া গেছে। এতে বয়লার ও ডাইং ইউনিট চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। উৎপাদন সচল রাখতে জেনারেটর ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে কারখানাগুলোর ব্যয়ও বেড়ে যায়।


এর মধ্যে গত দুই দিনে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত ও তিতাস গ্যাসের বিশেষ উদ্যোগে কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ ২ দশমিক ৫০ পিএসআই থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৫৯ পিএসআই পর্যন্ত উঠেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


নুর গার্মেন্টস লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় তাদের কারখানায় উৎপাদন কম ছিল। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। তবে গত দুই দিনে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়েছে।


তিনি বলেন, তাদের কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ ১০ পিএসআই। বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ৬ দশমিক ৫৯ পিএসআই। এতে শ্রমিকদের কাজের উৎসাহ বেড়েছে এবং কারখানায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে।


জহিরুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি সরবরাহের এ পরিস্থিতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে সহায়তা এবং বকেয়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হলে গত কয়েক মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।


নায়াগ্রা টেক্সটাইলের এজিএম (অ্যাডমিন) তালুকদার বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় কারখানায় এখনও গ্যাসের সরবরাহ কম। তবে কয়েক দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ধীরে ধীরে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে।


গ্যাসের চাপ বাড়ায় কারখানার বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি এখন আগের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের অলস সময় কাটানোর পরিস্থিতিও কমেছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কারখানাগুলোতে জমে থাকা অর্ডারের কাজ দ্রুত শেষ করতে জোর দেওয়া হচ্ছে।


শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহের এ উন্নতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা ধরে রাখা সহজ হবে। তবে সাম্প্রতিক উৎপাদন ঘাটতি ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তাও প্রয়োজন।


তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির গাজীপুর ও তিতাস গ্যাস অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত বলেন, সিস্টেমে গ্যাসের চাপ বাড়ায় সরবরাহ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে।


তিনি বলেন, সব এলাকায় একই সময়ে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হয় না। অঞ্চলভেদে ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হয়।


প্রকৌশলী সাখাওয়াত আরও বলেন, আশুলিয়া ও সাভারের শিল্পাঞ্চলে ইতোমধ্যে গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় ভালো। সামনের দিনগুলোতে সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।