গুরুদাসপুরে সার পাচারের অভিযোগে দুই ডিলারকে শোকজ, জব্দ ৩০ বস্তা

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
গুরুদাসপুরে সার পাচারের অভিযোগে দুই ডিলারকে শোকজ, জব্দ ৩০ বস্তা

সংগৃহীত

মোঃ আব্দুর রউফ, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি


নাটোরের গুরুদাসপুরে সারসংকটের মধ্যে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে দুই সার ডিলারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ডিলার গিয়াস উদ্দিন ও সিদ্দিকুর রহমান শাহকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা কৃষি কার্যালয়। এর আগে পৃথক অনিয়মের অভিযোগে তাঁদের জরিমানাও করা হয়েছিল।


বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে তাঁদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সার পাচারের অভিযোগে দুই ডিলারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিনি জানান, এর আগে ডিলার গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে সার পাচার এবং সিদ্দিকুর রহমান শাহর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। সে সময় জরিমানা পরিশোধ ও মুচলেকা দিয়ে তাঁরা পার পান। এবার তাঁদের বিরুদ্ধে আবারও পার্শ্ববর্তী উপজেলায় সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।


সীমান্ত এলাকায় আটক ৩০ বস্তা ইউরিয়া


উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ডিলার গিয়াস উদ্দিন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের এক কৃষকের কাছে ১০ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করেন। অন্যদিকে, ডিলার সিদ্দিকুর রহমান শাহর প্রতিষ্ঠান থেকে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার এক ব্যবসায়ীর কাছে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করা হয়।


পৃথক তিনটি অটোভ্যানে করে সারগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় গুরুদাসপুর ও তাড়াশ উপজেলার সীমান্তবর্তী বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বিলবিয়াসপুর এলাকায় ভ্যানগুলো আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। পরে ৩০ বস্তা সারসহ তিনটি অটোভ্যান জব্দ করা হয়।


ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, সার আটকের সময় ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আটক ভ্যানচালকদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারদের ক্যাশ মেমো পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, সার কারসাজি রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।


সারসংকটে চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কায় কৃষকেরা


এদিকে চলনবিলজুড়ে ছিটিয়ে বোনা সরিষা, বিনা হালে রসুন, ভুট্টাসহ বিভিন্ন রবিশস্যের আবাদ শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই গুরুদাসপুর উপজেলায় সারসংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।


প্রতিদিন সার সংগ্রহ করতে ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্রে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক কৃষক চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে সার নিয়ে অনিয়ম ও পাচারের অভিযোগ তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।


কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো প্রয়োজনীয় সার না পেলে চলতি মৌসুমে রবিশস্যের আবাদ ব্যাহত হতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ও ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।


সারসংকটের এই সময়ে বরাদ্দকৃত সার যথাযথভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছানো এবং অনিয়মের অভিযোগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।


এমকে/বিএম২৪