কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকট, সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ সারি

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০১ পিএম
কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকট, সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ সারি

সূত্রঃ সংগৃহীত

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি


গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে বিপাকে পড়েছেন সিএনজি চালিত যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। গ্যাসের চাপ কম থাকায় উপজেলার অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। চালু থাকা কয়েকটি স্টেশনে গ্যাস নিতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।


রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।


চালক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে কালিয়াকৈরে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালাতে পারছে না। ফলে চালু থাকা স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা।


স্টেশনে অপেক্ষমাণ সিএনজি চালক আবির বলেন, সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিনের আয় কমে গেছে। পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক চালক দিনভর চেষ্টা করেও গ্যাস না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।


আরেক অটোরিকশাচালক বলেন, গ্যাসের জন্য একটি স্টেশনে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি যাত্রীদেরও দুর্ভোগ বাড়ছে।


এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে পরিবহন সংকট তৈরি হওয়ায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে তাদের বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।


শুধু পরিবহন খাত নয়, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাতেও। কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় এসব কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ১৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ বলে জানা গেছে।


কালিয়াকৈর-চন্দ্রা তিতাস জোনাল অফিসের প্রকৌশলী মাসুদ বলেন, চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম পাওয়ায় অনেক সিএনজি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। তবে উপজেলার অনেক শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ রয়েছে। দ্রুত এ সংকটের সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসন করে সিএনজি স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।