এমপিওভুক্ত শিক্ষক গোপনে পোস্টমাস্টার, বেতন-ভাতা তুলছেন ২ প্রতিষ্ঠান থেকে

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
এমপিওভুক্ত শিক্ষক গোপনে পোস্টমাস্টার, বেতন-ভাতা তুলছেন ২ প্রতিষ্ঠান থেকে

ডেস্ক রিপোর্ট:

একদিকে এমপিওভুক্ত মাদরাসার শিক্ষক, অন্যদিকে একই সময়ে সাব-পোস্ট অফিসের অতিরিক্ত বিভাগীয় (ইডিএ) পোস্টমাস্টার-দুটি সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে চাকরি করে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ, যিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি....

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষাঙ্গন ও ডাক বিভাগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুর এলাকার এমপিওভুক্ত দারুল এখলাছ আমেনা (রা.) মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার ছিলেন। গত ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় নকল সরবরাহের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন এবং নিয়মিত এমপিও সুবিধা পাচ্ছেন।

একই সঙ্গে তিনি চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব এখলাছপুর সাব-পোস্ট অফিসে (ইডিএ) পোস্টমাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেখান থেকেও নিয়মিত বেতন তুলেছেন। 

এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুটি পদে চাকরি বা বেতন ভোগ করতে পারেন না। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করায় তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ প্রথমে দাবি করেন, ‘কয়েক মাস আগেই তিনি পোস্টমাস্টারের চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে গত জুন মাসের বেতন গ্রহণের তথ্য দেখানো হলে তিনি বলেন, কাজ করেছি, তাই বেতন নিয়েছি। পরে আবার দাবি করেন, ওই বেতনের টাকা ফেরত দিয়েছি।’

তবে তার বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। ফরিদগঞ্জ উপজেলা পোস্টমাস্টার আনিছুর রহমান বলেন, ‘মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ মাদরাসায় চাকরি করার বিষয়টি গোপন রেখে পূর্ব এখলাছপুর সাব-পোস্ট অফিসে (ইডিএ) পোস্টমাস্টার হিসেবে কাজ করেছেন। জুন মাসের বেতনও তিনি গ্রহণ করেছেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে সেই অর্থ আমি ফেরত নিয়েছি। তিনি আমার কাছে কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। জেলা পোস্ট পরিদর্শক মৌখিকভাবে তার বেতন আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ইউনিয়ন পোস্টমাস্টারদের বেতন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দেয়া হলেও আইবিএএস (সরকারি কর্মচারীদের অনলাইনে বেতন নির্ধারণী) ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। ইকরাম হোসেন হামিদ পোস্টমাস্টার হিসেবে আইবিএএসে বেতন নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন।’

চাঁদপুর জেলা পোস্ট পরিদর্শক ফারুক খান বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। একটি পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আগামী মাস থেকে তার নামে আর বেতনের রোল যাবে না।’

অন্যদিকে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, ‘এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি পদে চাকরি করতে পারেন না। বিষয়টি জানতে চাইলে ইকরাম হোসেন হামিদ পোস্টমাস্টার পদ থেকে গত ৩০ এপ্রিলের একটি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তবে ওই পদত্যাগপত্রে কোনো রিসিভিং সিল বা গ্রহণের স্বাক্ষর নেই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সূত্র- চ্যানেল ২৪