উলিপুরে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, সালিশে টাকা লেনদেনের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০০ পিএম
উলিপুরে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, সালিশে টাকা লেনদেনের অভিযোগ

ছবি: বিডি মেইল

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি


কুড়িগ্রামের উলিপুরে নাজমা খাতুন (৩৮) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের পশ্চিম নাওড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সালিশে টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এর পরদিনই ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজমা তাঁর মা অলিমা বেগম ও ভাই রহিমুল ইসলামের সঙ্গে বসবাস করতেন। গত এক বছর ধরে শাহিনুর ইসলাম পলাশ নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওই যুবক নাজমার বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করেন। পরে জানা যায়, ওই যুবক হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং তাঁর স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। তাঁর বাড়ি একই উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের মিনাবাজার এলাকায়।


এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার মধ্যস্থতায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠক হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ওই বৈঠকে এক লাখ ১৬ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।


তাঁদের দাবি, জরিমানার ৭০ হাজার টাকা নাজমার মামা ও ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফজলে কাদের এবং বাকি টাকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফি কামালসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ভাগ করে নেন।


স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ঘটনার পর রোববার বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে নাজমা একটি পরিত্যক্ত ঘরে গলায় ফাঁস দেন। পরে স্বজনরা তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।


ধামশ্রেণী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফি কামাল বলেন, পান্ডুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদলের কাছ থেকে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে সালিশ বৈঠকে গেলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে থাকেননি। সমঝোতা না হওয়ায় আগেই চলে আসেন। পরে তিনি শুনেছেন, উভয় পক্ষের সম্মতিতে শনিবার দিবাগত রাতে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।


ধামশ্রেণী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, উলিপুর বাজারে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হায়দার আলী মিঞার শোরুমে তাঁর উপস্থিতিতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়। জরিমানার পুরো অর্থ নাজমার মামার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।


নিহতের মামা ও ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফজলে কাদের বলেন, সালিশ বৈঠকে তিনি জানতে পারেন, ছেলেটি হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাঁর ভাগনি নাজমা তাঁকে বিয়ে করতে রাজি হননি। পরে এক লাখ ২০ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে এক লাখ ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। ওই টাকা তাঁর হাতে দেওয়া হলে তিনি তা তাঁর বোনের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।


উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।