আমতলীতে ঢালাইয়ের সময় দেবে গেল নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ে, ৭ দিনের জন্য কাজ বন্ধ

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
আমতলীতে ঢালাইয়ের সময় দেবে গেল নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ে, ৭ দিনের জন্য কাজ বন্ধ

সূত্রঃ সংগৃহীত

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি


বরগুনার আমতলী পৌরসভার সামনে লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের মূল গোলচত্বরের ঢালাইয়ের সময় একটি অংশ দেবে গেছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের সব ধরনের কাজ আপাতত সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রকল্পের বরিশাল বিভাগীয় কনসালট্যান্ট প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ।


পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘লোকাল গভমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমতলী পৌরসভার লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তৎকালীন পৌর মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি মতিয়ার রহমান প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করেন। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় ঝালকাঠির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্স। পরে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কাজটি কিনে নেন সাবেক এক পৌর মেয়র।


২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক মো. আশরাফুল ইসলাম প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর পিলার স্থাপনসহ ওয়াকওয়ের সড়কের ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়। তবে মূল গোলচত্বরের সেন্টারিং করে প্রায় এক বছর কাজ ফেলে রাখা হয়।


রোববার সকালে প্রায় এক বছর পর মূল গোলচত্বরের ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়। ঢালাই চলার সময় গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশের প্রায় ১০ থেকে ১৫ বর্গফুট অংশ হঠাৎ দেবে যায়। পরে ওই অংশের ঢালাই বন্ধ করে দেওয়া হয়।


ঠিকাদারের পক্ষে কাজটি তদারকির দায়িত্বে থাকা মো. পান্নু মোল্লা বলেন, ‘ঢালাইয়ের সময় সেন্টারিংয়ের কাঠ সরে যাওয়ায় সামান্য দেবে গেছে। এটি দ্রুত ঠিক করে দেওয়া হবে।’


আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মশিউর রহমান বলেন, পানির মধ্যে ওয়াকওয়ের মূল গোলচত্বরটি ছয় ইঞ্চি করে দুই স্তরে মোট এক ফুট উঁচু করে ঢালাই করার কথা। প্রথম স্তরের ঢালাইয়ের সময় দক্ষিণ পাশের একটি অংশ আকস্মিক দেবে যায়। এরপরই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।


কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পিলারে কোনো সমস্যা নেই। প্রায় এক বছর আগে সেন্টারিং করে রাখায় কোনো কাঠ পচে গিয়ে সরে যাওয়ার কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে।’


এদিকে ঢালাইয়ের সময় ওয়াকওয়ের একটি অংশ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


দৈনিক কালবেলার আমতলী প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, খবর পেয়ে তিনি ও কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ভিডিও ধারণের সময় তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় রোববার রাতে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মনিরুল ইসলাম।


অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিক পরিচয় না দিয়েই তারা আমার ভিডিও করছিলেন। তাই ভিডিও করতে নিষেধ করেছি। এর বাইরে কিছু হয়নি।’


আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আদালতের অনুমতি চাওয়া হবে।’


এদিকে সোমবার সকালে ঢালাই দেবে যাওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লোকাল গভমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রকল্পের বরিশাল বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের ঢালাইয়ের সময় একটি অংশ দেবে গেছে। কী কারণে এটি ঘটেছে, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানানো হয়েছে।’


আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



এমকে/বিএম২৪