আইজিপিকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
আইজিপিকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে

সংগৃহীত

 নিজস্ব প্রতিবেদক


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মুগদায় আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান।


আইজিপির বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইজিপিকে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে তাঁরা ধরে নেবেন, তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন। আর তাঁর নির্দেশে বক্তব্য না দিয়ে থাকলে অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।


আইজিপির মন্তব্যের মাধ্যমে পুরো পুলিশ বাহিনীকে অপমান করা হয়েছে দাবি করে এনসিপির এই নেতা বলেন, পুলিশ বাহিনী ঘুরে দাঁড়িয়ে জনগণের পুলিশ হতে চায়। কিন্তু আইজিপি পুলিশকে আবার লাঠিবাহিনী, ক্রসফায়ারের বাহিনী ও চাঁদাবাজের বাহিনীতে পরিণত করতে চাইছেন।


পুলিশের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করেন। তাঁদের রক্ত ও পোশাক বিক্রি করে কর্মকর্তারা বিদেশে বাড়িঘর তৈরি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, আইজিপি আসবেন-যাবেন। তাই তাঁর স্বার্থের বলি হওয়া যাবে না এবং কোনো অবৈধ আদেশ মানা উচিত নয়। জনগণ ঘুরে দাঁড়ালে লাঠি বা বারুদ দিয়ে তাদের ঠেকানো যায় না।


সমাবেশে আইজিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর দাবি, আইজিপির বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ


দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পুলিশ ও মন্ত্রীরাও নিরাপদ নন। মন্ত্রী, চাঁদাবাজ ও ডাকাতদের অস্ত্র নিয়ে চলাফেরার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরাই মন্ত্রী হয়েছেন, নাকি মন্ত্রীরাই সন্ত্রাসী হয়েছেন।


তিনি অভিযোগ করেন, রাত ৯টার পর ঢাকায় মানুষ বের হতে সাহস পায় না। বের হলে জামাকাপড় খুলে রেখে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। খুলনায় নিরাপত্তার অভাবে পুলিশও বের হতে ভয় পায় বলে দাবি করেন তিনি।


স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সমালোচনা


পারিবারিক স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মন্ত্রীরা দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ব্যবসা, ডিলারশিপ ও ঠিকাদারির সুযোগ পান।


মন্ত্রীদের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিবারের চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশের কতজন মন্ত্রীর সন্তান দেশে পড়াশোনা করেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। মন্ত্রীরা যদি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা না রাখেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে আস্থা রাখবে? একইভাবে দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে তাঁরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


সিটি নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য


আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মুগদাবাসীকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি এলাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।


বিএনপির সমালোচনা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গ


রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০০৬ সালে বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়ে নির্বাচনের দিকে এগোনোর চেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ১৭ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর দায় বিএনপির ওপর বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।


তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইতিহাস বিএনপির নেই। ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে দলটিকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।


বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সালাহউদ্দিনের পরামর্শে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নীলনকশা করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


এমকে/বিএম২৪