"হয় মৃত্যু নয়তো আর্থিক সফলতা"
কিছু মানুষের জীবনটা এমন একটা পর্যায়ে যায় তখন হয় মৃত্যু নয়তো আর্থিক সফলতা পাওয়াই মূল হয়ে ওঠে বা আবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়ায়। বিয়ে-শাদি-সংসার, সন্তান-সন্ততি, সম্পর্ক, ইবাদাত, ব্যবসা বা চাকরি সবকিছু থমকে যায়। কিছু জিনিস হারিয়ে গেলে সেটা আর ফিরে আসবে না। কিন্তু আর্থিক সফলতার কারণে সেসব শুন্যতা গুলোকে স্তব্ধ করে রাখা যায়।
জীবনটা একটা যুদ্ধ ! আর সফলতার প্রতিযোগিতাই মানুষকে স্পষ্ট করে তোলে। জীবনে সফল নাহলে মৃত্যুর মাধ্যমে হেরে যাওয়া উচিত।
যখন মানুষ দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছায়, তখন আবেগ বা সম্পর্কের চেয়ে টিকে থাকা এবং নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ দেওয়াটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়।
মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন পৃথিবীটা খুব ছোট হয়ে যায়। চারপাশের কোলাহল, আত্মীয়তার বন্ধন, এমনকি দৈনন্দিন রুটিনগুলোও তখন অর্থহীন মনে হয়। জীবনের সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মনে হয়, সামনে কেবল দুটি পথ খোলা: হয় পাহাড়সম আর্থিক সাফল্য অর্জন করে নিজেকে প্রমাণ করা, না হয় পরাজয় মেনে নিয়ে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া। এই চরম মানসিক অবস্থাই ‘জীবন-মরণ যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত।
জীবনের কিছু ক্ষতি অপূরণীয়। প্রিয়জন হারিয়ে যাওয়া বা সময়ের অপচয়— এগুলো কোনো অর্থ দিয়ে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সমাজ এবং বাস্তবতার রূঢ় সত্য এই যে, আর্থিক সচ্ছলতা একটি শক্তিশালী বর্ম হিসেবে কাজ করে। এটি মনের ক্ষতগুলোকে হয়তো মুছে দেয় না, কিন্তু সেই ক্ষতগুলো নিয়ে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়। শূন্যতা যখন গ্রাস করতে আসে, তখন আর্থিক সামর্থ্য সেই হাহাকারকে স্তব্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
যখন ব্যবসা, চাকরি বা ব্যক্তিগত জীবন থমকে যায়, তখন মানুষ এক ধরণের ‘অস্তিত্ব সংকটে’ ভোগে। এই স্থবিরতা ভাঙার জন্য সাফল্যের কোনো বিকল্প নেই। সফলতাই মানুষকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে। প্রতিযোগিতার এই পৃথিবীতে যার হাতে সাফল্যের চাবিকাঠি নেই, তার কণ্ঠস্বর বা আর্তনাদ কারো কানে পৌঁছায় না। তাই জীবনের এই যুদ্ধে জয়ী হওয়াটা তখন কেবল বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার একমাত্র শর্ত দাঁড়ায়।
জীবন এক নিরন্তর যুদ্ধ। এখানে প্রতি পদক্ষেপে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। তবে এই যুদ্ধের ময়দানে ‘সফলতা’ বা ‘মৃত্যু’—এই চরমপন্থী চিন্তার পেছনে লুকিয়ে থাকে এক তীব্র জেদ। এই জেদই মানুষকে সাধারণ থেকে অসাধারণ করে তোলে। যখন কেউ মনে করে যে সফল না হলে তার বেঁচে থাকা নিরর্থক, তখন তার ভেতরের সুপ্ত ক্ষমতাগুলো জাগ্রত হয়। তবে মনে রাখতে হবে:
সাফল্য মানে কেবল ব্যাংক ব্যালেন্স নয়, আর্থিক সফলতার পাশাপাশি নিজের হারানো আত্মসম্মান ফিরে পাওয়া।
ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, কিন্তু চেষ্টা ছেড়ে দেওয়াটাই প্রকৃত পরাজয়।
সাফল্যের নেশা বা প্রয়োজনীয়তা যখন তুঙ্গে থাকে, তখন মানুষের লক্ষ্য স্পষ্ট হয়ে যায়। অপ্রয়োজনীয় আবেগ বা সম্পর্কের মায়া তখন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এই স্পষ্টতাই একজন মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। যারা এই যুদ্ধে জয়ী হয়, ইতিহাস কেবল তাদেরই মনে রাখে।
"জীবন আসলে একটি কঠিন অংক; যেখানে আর্থিক সফলতা অনেকগুলো শূন্যস্থান পূরণ করে দেয়। তবে মনে রাখা জরুরি, যুদ্ধটা নিজের সাথে— নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য।"
একটা পর্যায়ে অস্তিত্বের লড়াইয়ে আর্থিক সফলতা ও জীবন সমার্থক হয়ে দাঁড়ায়-।
লেখক:
ওমায়ের আহমেদ শাওন
বা/মে২৪/ম









