খান জাহান আলী মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো কুমির

প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
খান জাহান আলী মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো কুমির

প্রিন্স মন্ডল অলিফ,  বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে আলোচিত কুমিরটিকে অবশেষে অপসারণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে কুমিরটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সকাল থেকেই মাজার এলাকায় অবস্থান করেন। বেলা ১১টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

দুপুর ১২টার দিকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে কুমিরটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে নিরাপদে বেঁধে একটি বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, তিন দিন আগে একই কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কুমির অপসারণের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিঘিপাড় এলাকার বাসিন্দা কুলসুম বেগম বলেন, “খান জাহানের আমলের কুমিরগুলো সাধারণত শান্ত স্বভাবের ছিল। কিন্তু এই কুমিরটিকে নিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকতাম। দিঘিতে নামতেও ভয় লাগত।”

কুমির বিশেষজ্ঞ আজাদ কবির জানান, “সফলভাবে কুমিরটিকে উদ্ধার করা গেছে। এটি একটি মাদী কুমির, যার ওজন প্রায় ৬০০ কেজি। বর্তমানে এটিকে খুলনা রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, “জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত এটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে।”