প্রতিবেশী দেশগুলো পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় বাংলাদেশেরও হওয়া ন্যায্যতা

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
প্রতিবেশী দেশগুলো পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় বাংলাদেশেরও হওয়া ন্যায্যতা

আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতা হলো শক্তির ভারসাম্য। পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা গেছে- সামরিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের চারপাশের অঞ্চলও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এবং চীন, উভয়ই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। একই অঞ্চলে অবস্থিত পাকিস্তানও পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। ফলে নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশেরও পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের অধিকার রয়েছে।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, একটি রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব তার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যখন একটি দেশ এমন একটি অঞ্চলে অবস্থান করে যেখানে একাধিক পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র রয়েছে, তখন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাদের যুক্তি হলো, শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে বাংলাদেশকেও অন্তত পারমাণবিক প্রযুক্তিতে উচ্চতর দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রাখতে হবে।

অন্যদিকে পারমাণবিক শক্তি শুধু সামরিক অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক বিশ্বে এটি জ্বালানি উৎপাদন, চিকিৎসা, কৃষি গবেষণা এবং শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে অনেকের মতে, বাংলাদেশের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তির উন্নয়ন মানে কেবল প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নয়; বরং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের একটি ধাপ। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প হয়েছে। 

কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি অত্যন্ত ব্যয়বহুল, জটিল এবং আন্তর্জাতিকভাবে সংবেদনশীল একটি বিষয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে আন্তর্জাতিক চুক্তি, কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। ফলে শুধু প্রতিবেশীদের সক্ষমতার ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।

বাংলাদেশের শক্তি বরাবরই ছিল তার কূটনৈতিক ভারসাম্য, শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আধুনিক প্রযুক্তি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষ সশস্ত্র বাহিনী, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। কারণ বর্তমান বিশ্বে শুধু অস্ত্র নয়, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদও জাতীয় শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রশ্নটি অমূলক নয়। তবে এই বিষয়ের সমাধান কী হবে, তা নির্ভর করে জাতীয় স্বার্থ, আন্তর্জাতিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর। শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি হতে পারে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, অর্থনীতি এবং কার্যকর কূটনীতির সমন্বিত বিকাশ।

যে কোনো রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো নিজের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। একটি রাষ্ট্র যত উন্নতই হোক না কেন, যদি সে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে একটি স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতা বাঙালি জাতিকে শিখিয়েছে যে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেমন সংগ্রাম প্রয়োজন, তেমনি স্বাধীনতা রক্ষার জন্যও প্রয়োজন প্রস্তুতি, সতর্কতা এবং কৌশলগত দূরদর্শিতা। 

বাংলাদেশের জন্ম কোনো কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে হয়নি; এটি অর্জিত হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে। লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব।

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার সার্বভৌমত্ব। এই সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কেবল সাহস নয়, প্রয়োজন পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।

বিশ্বের বহু রাষ্ট্র ইতিহাসে সামরিক দুর্বলতার কারণে বিদেশি আগ্রাসন, রাজনৈতিক চাপ কিংবা অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছে। তাই নিরাপত্তা শুধু সামরিক বিষয় নয়; এটি জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন।

দক্ষিণ এশিয়া পৃথিবীর অন্যতম স্পর্শকাতর ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চল। এখানে জনসংখ্যা বিপুল, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্র এবং নিরাপত্তা উদ্বেগও অনেক বেশি।

এই অঞ্চলের বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ, কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শক্তির প্রভাব বিদ্যমান। ফলে নিরাপত্তা প্রশ্নটি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে।

বাংলাদেশ ভৌগোলিক ভাবে এমন এক অবস্থানে রয়েছে যেখানে সমুদ্র, নদীপথ, বাণিজ্যপথ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এর কৌশলগত গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং সামুদ্রিক সম্পদের প্রশ্নও বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এই অবস্থায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা স্বাভাবিক।

পারমাণবিক সক্ষমতার প্রসঙ্গে কয়েকটি যুক্তি-

১। আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি রাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতা প্রয়োজন।

২। পারমাণবিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন একটি দেশের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতারও পরিচায়ক।

৩। পারমাণবিক সক্ষমতা একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ জানে যে আক্রমণের মূল্য অনেক বেশি হতে পারে।

৪। একটি রাষ্ট্র যত বেশি আত্মনির্ভরশীল হবে, তত বেশি স্বাধীনভাবে তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে।

৫। অপর প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুলো পারমাণবিক শক্তিধর হলে বাংলাদেশেরও নিরাপত্তার স্বার্থে সে সক্ষমতা অর্জন প্রয়োজন। 

বিশ্ব রাজনীতিতে মর্যাদা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু ইদানীং প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের আক্রমণাত্বক মনোভাব এদেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। 

একটি রাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব পাবে, কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে এবং কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, তা অনেকাংশে তার জাতীয় সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে অনেকেই আদর্শের রাজনীতি মনে করতে চান। কিন্তু বাস্তবে এটি শক্তির রাজনীতি। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আইন কিংবা বিভিন্ন বৈশ্বিক চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিশ্বের বড় বড় সংকটগুলোতে দেখা যায়, শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোই অধিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পৃথিবীর ক্ষমতার কাঠামো অনেকটাই নির্ধারিত হয়েছে সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির মাধ্যমে। পারমাণবিক যুগ শুরু হওয়ার পর এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। কারণ পারমাণবিক সক্ষমতা শুধু একটি অস্ত্র নয়; এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা, একটি প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অনেক ক্ষেত্রে একটি রাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানের প্রতীক।

আজকের পৃথিবীতে এমন বহু রাষ্ট্র রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বহুবার চিন্তা করতে হয়। এর অন্যতম কারণ তাদের কৌশলগত সক্ষমতা। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার আলোচনায় শক্তির প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো "Balance of Power" বা শক্তির ভারসাম্য। এর মূল বক্তব্য হলো- কোনো অঞ্চলে যদি একটি পক্ষ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং অন্যরা দুর্বল থাকে, তাহলে নিরাপত্তার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

এই কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি সবসময় যুদ্ধের জন্য নয়; অনেক সময় যুদ্ধ প্রতিরোধের জন্যও করা হয়।

অনেকের মতে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

তবে এই যুক্তির বিরুদ্ধেও মত রয়েছে। সমালোচকেরা বলেন, মর্যাদা শুধু অস্ত্র দিয়ে আসে না; বরং অর্থনীতি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং কূটনীতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের আলোচনা করতে গেলে অর্থনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করা যায় না।

বাংলাদেশ এখনো উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বহু খাতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

একটি উন্নত প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হয়। ফলে প্রশ্ন ওঠে- সীমিত সম্পদের মধ্যে অগ্রাধিকার কোন খাতে দেওয়া উচিত ?

অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি নিজেই জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি করে।

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে প্রযুক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি।

যে রাষ্ট্র প্রযুক্তিতে এগিয়ে, সে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা এবং কূটনীতিতেও এগিয়ে।

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ গবেষণা, রোবোটিক্স এবং উন্নত প্রকৌশল ভবিষ্যৎ শক্তির মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ যদি এই খাতগুলোতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে, তাহলে ভবিষ্যতে তার কৌশলগত অবস্থান অনেক শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মানুষ।

দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী, শ্রমশক্তি এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা ভবিষ্যতের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি।

যদি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের মানবসম্পদই একদিন দেশের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

একটি শিক্ষিত জাতি এমন শক্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা কোনো অস্ত্রের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী।

পারমাণবিক প্রযুক্তি শুধু সামরিক বিষয় নয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা, কৃষি গবেষণা, শিল্প উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এই দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জ্বালানি নিরাপত্তা আগামী দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা কৌশল কেবল একটি মাত্র খাতের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না।

একটি কার্যকর নিরাপত্তা কৌশলের মধ্যে থাকতে হবে- 

আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

শক্তিশালী অর্থনীতি

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা

সাইবার নিরাপত্তা

দক্ষ মানবসম্পদ

কৌশলগত কূটনীতি

এবং জাতীয় ঐক্য।

এই উপাদান গুলোর সমন্বয়েই একটি রাষ্ট্র সত্যিকারের শক্তিশালী হয়।

প্রতিবেশী দেশগুলো পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অস্বাভাবিক নয়। তবে একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল সামরিক সক্ষমতায় সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, গবেষণা, মানবসম্পদ এবং কূটনৈতিক প্রজ্ঞা- সবকিছু মিলিয়েই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।

বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া; যা একই সঙ্গে নিরাপদ, সমৃদ্ধ, বৈজ্ঞানিক ভাবে উন্নত এবং আন্তর্জাতিক ভাবে সম্মানিত। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে দূরদর্শিতা প্রয়োজন কিন্তু সেই দূরদর্শিতা যেন উন্নয়ন, মানবকল্যাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে তখনই যখন জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং আত্মমর্যাদার সমন্বয়ে জাতি নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে। শক্তির প্রকৃত অর্থ অস্ত্রে নয়, বরং এমন সক্ষমতায় যা একটি জাতিকে আত্মবিশ্বাসী, স্বাধীন এবং মর্যাদাবান করে তোলে।

রাষ্ট্র কীভাবে তার স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করবে ?

শক্তির ভারসাম্য, কৌশলগত বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং জাতীয় আত্মবিশ্বাসের আলোকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। কারণ নিরাপত্তা কেবল বর্তমানের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি একটি দায়িত্বও বটে।

বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তিধর নাহলে বিশ্বের সকল দেশের পারমাণবিক অস্ত্র একসাথে ধ্বংস করে শান্তির পৃথিবী ঘোষণা করা হোক। বাস্তবিক পক্ষে সেটি যেহেতু সম্ভব নয় সেহেতু বাংলাদেশকে পারমাণবিক শক্তিধর হতেই হবে। 

ইনসাফ কায়েম রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা বলেছেন, "মানচিত্র রক্ষা করতে চাইলে ঘাস খেয়ে হলেও অস্ত্র বানাও বাংলাদেশ। 

ওমায়ের আহমেদ শাওন 

(লেখক, কলামিস্ট ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক)