স্কুল ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
স্কুল ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব

এম হেলাল উদ্দিন নিরব,  বিশেষ প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণিপড়ুয়া এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতা মো. জোবায়েরকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭) চট্টগ্রাম।

রবিবার (১৭ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। তবে এখনো পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে আরও ২ অভিযুক্ত।

গ্রেপ্তার জোবায়ের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্দুপ্যা পাড়ার বাসিন্দা এবং ওই আলোচিত মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

এর আগে বুধবার (১৩ মে) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্ব ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্দুপ্যা পাড়ার পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে এ মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. ছৈয়দ (১৬), মো. রাকিব (২০), মো. মানিক ইসলাম (২০) ও আবদুর রহিমকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা প্রত্যেকে কারাগারে রয়েছেন।

এ ছাড়াও বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গ্রেপ্তার ৪ আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। যদিও র‍্যাব-৭ এর হাতে গ্রেপ্তার জোবায়েরকে এ মামলায় ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে, তবে পূর্বে গ্রেপ্তার ৪ আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার মূলহোতা হিসেবে জোবায়েরের নাম উঠে আসে। এ ছাড়াও তাদের ভাষ্যমতে, জোবায়ের অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে মিলে প্রথম ও শেষ ধাপে দু'দফায় ওই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিকে থানায় আনার পর বিষয়টি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ভুক্তভোগী ছাত্রী ও অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া অপর এক ছাত্রী মিলে (১৩ মে) বেলা ১১টার দিকে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মাহালিয়া গ্রামের সহুদের নালা ও ছদাহার পাহাড়ি মৎস্য প্রজেক্ট এলাকায় ঘুরতে যায়। মৎস্য খামার এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখে কয়েকজন মুরগির খামারের শ্রমিক ও কয়েকজন বখাটে তাদের পিছু নেয়। বিষয়টি টের পেয়ে প্রথমে তারা পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। লুকানো অবস্থা থেকে মৎস্য খামার ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় শ্রমিক ও বখাটে ৭ জন মিলে তারা দু’জনকে ধরে জোরপূর্বক মুরগির খামারের ওপরে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যায়। সেখানে তারা নবমশ্রেণি পড়ুয়া ওই স্কুল ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাহাড়ের গভীরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়াও তার সঙ্গে থাকা অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেন এবং পাহাড়ের অপর প্রান্তে জোরপূর্বক আটকে রাখেন। 

এ ঘটনায় একইদিন গভীর রাতে ধর্ষণের শিকার নবমশ্রেণি পড়ুয়া ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ৭ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।