সাবেক চার ব্যাংক এমডি জেলে, আতঙ্কে অনেকেই

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
সাবেক চার ব্যাংক এমডি জেলে, আতঙ্কে অনেকেই

ডেস্ক রিপোর্ট:

একসময় রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের দাপুটে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ।

২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে টানা ছয় বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে। চলতি বছরের মার্চে আদালতে জামিন চাইতে গেলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে এননটেক্স গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আব্দুছ ছালাম আজাদের মতোই কারাগারে রয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওবায়েদ উল্লাহ মাসুদ। গত বছরের ১৯ নভেম্বর দুদকের মামলায় গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের ১৮৯ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির একটি মামলায়। এ ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল এক যুগেরও বেশি সময় আগে, যখন ওবায়েদ উল্লাহ মাসুদ অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ছিলেন।

প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে আছেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মনিরুল মওলা। আর এক্সিম ব্যাংকের সাবেক এমডি ফিরোজ হোসেন কারাগারে আছেন ছয় মাসের বেশি সময় ধরে। তারা উভয়েই গ্রেফতার হয়েছেন দুদকের মামলায়। এর মধ্যে মনিরুল মওলা গ্রেফতার হয়েছেন ২০২৫ সালের ২২ জুন। তার বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাতে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর ফিরোজ হোসেন গ্রেফতার হন গত বছরের ৫ নভেম্বর। এক্সিম ব্যাংক থেকে ৮৫৭ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন, আত্মসাৎ ও পাচারে সহযোগিতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কারাদণ্ডের ঘটনা অনেক দেশেই দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অনেক ব্যাংকারের ভূমিকার কথা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের গবেষণায় উঠে আসে। দেখা গেছে, সে সময় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক সংকটের পেছনে দায় ছিল এমন ৪৭ ব্যাংকারকে বিভিন্ন সময়ে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ব্যাংকাররা অর্থনৈতিক সংকটে ভূমিকা রাখা কিংবা তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের মাধ্যমে ধ্বংস করার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় শাস্তি পেয়েছেন।

কারাদণ্ড পাওয়া ব্যাংকারদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি আইসল্যান্ডে। এ দেশের ২৫ শীর্ষ ব্যাংকার কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। স্পেনে ২০১২ সালে ব্যাংক খাতের বিপর্যয়ে যুক্ত ১১ ব্যাংকারকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নামটি রদ্রিগো রাতো। এই রাতো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক প্রধান। তিনি স্প্যানিশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাঙ্কিয়ার চেয়ারম্যান থাকাকালেই সেটি বিপর্যয়ে পড়েছিল। আয়ারল্যান্ডে সাজা পেয়েছেন সাত ব্যাংকার।

২০০৮-এর অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম উৎসস্থল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বিপর্যয়ে যুক্ত থাকার অভিযোগে একজন ব্যাংকারকে কারাদণ্ড দিয়েছে। ক্রেডিট সুইসের প্রাক্তন ট্রেডার করিম সেরাগেলদিনকে সাবপ্রাইম মর্টগেজের মূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর জন্য ৩০ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ আর্থিক পণ্যটিই ছিল ওয়াল স্ট্রিটের পতনের মূল কারণ।

এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনায় কারাদণ্ড পেয়েছেন এক ব্যাংকার। সিটিব্যাংক সিঙ্গাপুরের সাবেক রিলেশন ম্যানেজার ওয়াং কিমিংকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনায় যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ওয়াং কিমিংকে এ সাজা দেন আদালত।

দেশে কারাগারে থাকা শীর্ষ নির্বাহীদের বাইরে আরো ডজন খানেক ব্যাংক এমডির বিরুদ্ধে এরই মধ্যে দুদক মামলা করেছে। আর অভিযোগ অনুসন্ধান ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে আরো ১০-১২টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর বিরুদ্ধে। এমডিরা ছাড়াও প্রতিটি মামলায় আসামি করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বহু কর্মকর্তাকে। এর মধ্যে এএমডি, ডিএমডি, বিভাগীয় প্রধান, শাখাপ্রধানসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন। গ্রেফতার ও শাস্তি এড়াতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের এমডি-ডিএমডিরা বিদেশে পালিয়েছেন। চাকরিচ্যুত হয়েছেন এমন এমডিরা দেশে থাকলেও লোকচক্ষুর অন্তরালেই দিন কাটাচ্ছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে যারা এখনো কর্মরত, তাদের দিন কাটছে আতঙ্কে।

দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে, তাতে মামলার সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে। আর আসামির সংখ্যা হতে পারে কয়েক হাজার। কারণ একটি ঋণের প্রস্তাব ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ১৫-২০ কর্মকর্তা যুক্ত থাকেন। প্রতিটি ঋণ ব্যাংকের পর্ষদে উপস্থাপিত হয় শীর্ষ নির্বাহীর সুপারিশের ভিত্তিতে। মামলায় ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকার, ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে আসামি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা অর্ধশত ছাড়াতে পারে....

এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধান ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তকে আটক এবং কারাগারে প্রেরণের আবেদন করতে পারেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই কয়েকটি ব্যাংকের এমডি গ্রেফতার হয়েছেন। আরো বেশকিছু অভিযোগের বিষয়ে দুদক তদন্ত করছে। দেশের ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ অনিয়ম-দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। দুদক তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে।’

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের কারাগারে পাঠানো কিংবা মামলার আসামি হিসেবে ফেরারি হওয়াকে দুঃখজনক বলে মনে করেন ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘শীর্ষ নির্বাহীসহ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর চেয়ারম্যান, পর্ষদ কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী পক্ষ থেকে ভুল সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু দিন শেষে ঘটনার জন্য দায়ী হচ্ছেন কেবল শীর্ষ নির্বাহী বা ব্যাংকাররা। জীবনসায়হ্নে এসে শীর্ষ নির্বাহীরা কারাগারে যাচ্ছেন, কেউ কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন—এটি দুঃখজনক ও হতাশার। এ কারণে এখন যোগ্য ব্যাংকারদের অনেকে সিইও হতে চাইছেন না।’

টানা ১৯ বছর ইস্টার্ন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করা এ ব্যাংকার আরো বলেন, ‘ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের অনেকে ট্রমার মধ্যে পড়ে গেছেন। ব্যাংকাররা এখন ঋণ দিতেই ভয় পাচ্ছেন। এ কারণে দেশের বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। ব্যাংকাররা এ চাপ থেকে বেরোতে না পারলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব হবে না।’

২০০৯ থেকে পরবর্তী দেড় দশকে দেশের ব্যাংক খাত সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও জনগণের আমানত লুণ্ঠনের শিকার হয়। এর প্রভাবে দেশের ৬২টি ব্যাংকের প্রায় অর্ধেকই এখন ভঙ্গুর দশায়। এর মধ্যে এক ডজন ব্যাংক গ্রাহকের আমানতের অর্থও ফেরত দিতে পারছে না। মূলধন ঘাটতিতে পড়া ব্যাংকের সংখ্যা ঠেকেছে ২৪-এ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ৩০ শতাংশ। অবশ্য এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। ওই সময় খেলাপি ঋণের হার ছিল প্রায় ৩৬ শতাংশ। বছরের শেষ তিন মাসে ব্যাংকগুলো পুনঃতফসিল করে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমাতে পেরেছে। তবে দেশে খেলাপি ঋণের বিদ্যমান হার এখনো বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।

লুণ্ঠনের শিকার হওয়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে একটিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছিল সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। আর এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক ছিলেন নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার। বর্তমানে এ ব্যাংকগুলোর কোনো কোনোটির খেলাপি ঋণের হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতিও বেশ নাজুক। সরকারি আটটি ব্যাংকের ছয়টিই বড় অংকের মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এর মধ্যে কেবল জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ (সঞ্চিতি ঘাটতিসহ) ৬৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২৯ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে।

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই দেশের ব্যাংক খাত এতটা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে মনে করেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না হলে কোনো ব্যাংকেই ধসে যাওয়ার মতো অনিয়ম-দুর্নীতি হওয়া সম্ভব নয়। কোনো শীর্ষ নির্বাহী বা শাখা ব্যবস্থাপক ছোটখাটো অনিয়ম-দুর্নীতি কিংবা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। কিন্তু সেটি আগ্রাসী রূপ পায় চেয়ারম্যান ও পর্ষদের যোগসাজশে। এ কারণে ব্যাংকে অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য কেবল শীর্ষ নির্বাহীকে দায়ী করা যায় না। আমি বলব, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে শাস্তির আওতায় আনা দরকার।’

সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ আরো বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পর্ষদে ছাত্রলীগ-যুবলীগের তরুণ নেতাদের পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যান পদে কিছু অর্থনীতিবিদ, সাবেক আমলা কিংবা শিক্ষক থাকতেন। কিন্তু পর্ষদের মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল নিয়োগপ্রাপ্ত রাজনীতিকদের হাতে, যার খেসারত এ ব্যাংকগুলোকে দিতে হয়েছে।’

২০০৯ সাল-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক লুটের সূচনা হয়েছিল বেসিক ব্যাংক থেকে। সরকারি খাতের সেরা ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানটি মাত্র চার বছরের মধ্যে ভেঙে পড়েছিল। এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবারের ঘনিষ্ঠ এ রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দুদক এক ডজনের বেশি মামলা করেছে। কিন্তু কোনো মামলায়ই তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও আব্দুল হাই বাচ্চুর সন্ধান মেলেনি। ৭০ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে ধুঁকতে থাকা বেসিক ব্যাংক গত এক যুগে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা নিট লোকসানও দিয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের সবচেয়ে আলোচিত এমডি ছিলেন সৈয়দ আব্দুল হামিদ ও মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম। এর মধ্যে আব্দুল হামিদ ২০১০-১৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির এমডি ছিলেন। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে তাকে এমডি পদ থেকে অপসারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম ব্যাংকটির এমডি হয়েছিলেন। দুই মেয়াদে টানা ছয় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২২ সালে তিনি ব্যাংকটি থেকে বিদায় নেন। অগ্রণী ব্যাংকের এ দুই শীর্ষ নির্বাহীর বিরুদ্ধেই দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই দুদক মামলা করেছে। তবে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন। এর মধ্যে শামস-উল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকে ‘মুজিব কর্নার’ চালু করেন। পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এনে ‘মুজিব কর্নার’ ধারণাটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আলোচিত সাবেক এমডিদের আরেকজন আতাউর রহমান প্রধান। ২০১৬ সাল-পরবর্তী তিন বছর রূপালী ব্যাংকের এমডি ছিলেন তিনি। এরপর সোনালী ব্যাংকের এমডি পদে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। দুটি ব্যাংকেরই এমডি পদে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ ওঠে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কানাডায় পালিয়ে যান এমডি পদ থেকে অবসরে গিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ থেকে মনোনায়ন নিয়ে এমপি হওয়ার চেষ্টা করা এ ব্যাংকার।

 সূত্র- বণিক বার্তা