সুদের জালে নিঃস্ব বারাশিয়ার মানুষ, টাকা শোধের পরও ফেরত মেলেনি চেক-স্ট্যাম্প, উল্টো জমি লিখে নিয়েছে- ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
সুদের জালে নিঃস্ব বারাশিয়ার মানুষ,  টাকা শোধের পরও ফেরত মেলেনি চেক-স্ট্যাম্প, উল্টো জমি লিখে নিয়েছে- ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বারাশিয়া গ্রামে কথিত সুদ কারবারি রোকসানা ও তার স্বামী কাকন ভূইয়ার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

সুদের ফাঁদে ফেলে অসহায় মানুষের জমি, দোকান, বসতভিটা ও মাছের ঘের দখল, মিথ্যা মামলা দায়ের, চেক-স্ট্যাম্প আটকে রেখে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

রবিবার (১৭ মে) বিকেল ৫টায় বারাশিয়া বাজার স্কুল মাঠে “ভুক্তভোগী ও অসহায় সাধারণ জনগণ”-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন। 

মানববন্ধন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা “সুদের কারবার বন্ধ কর”, “গরিবের জমি ফেরত দাও”, “রোকসানার বিচার চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এলাকার সহজ-সরল ও দরিদ্র মানুষকে প্রথমে সহজ শর্তে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। পরে সুদের টাকা কয়েকগুণ বাড়িয়ে আদায় করা হয়। টাকা পরিশোধ করলেও চেক, স্ট্যাম্প কিংবা জমির কাগজ ফেরত না দিয়ে উল্টো হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করারও অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় আইউব আলী শেখ (৬৫), পিতা মৃত নোয়াব আলী শেখ, গ্রাম বারাশিয়া জানান, তিনি ২ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পরিশোধের পর বাকি ৫০ হাজার টাকা দিতে কিছু সময় চান। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়ে তার প্রায় আড়াই বিঘা জমি জোরপূর্বক লিখে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বেল্লাল শেখ (৭০), পিতা মৃত চানমিয়া শেখ, বলেন, তিনি ৪ লাখ টাকা নিয়ে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও তার জমাকৃত স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়া হয়নি। বরং আরও টাকা দাবি করা হচ্ছে।

মো. আলী শেখ (৩৮), পিতা আতিয়ার শেখ, অভিযোগ করেন, ৭০ হাজার টাকা নিয়ে মাত্র দুই মাসের মধ্যে ১ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও তার কাছ থেকে নেওয়া চেক ও স্ট্যাম্প এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।

কলিগাতি গ্রামের লাকি বেগম (৩৫), স্বামী মিজানুর শেখ, বলেন, তিনি ২০ হাজার টাকা নিয়ে পরে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু তাকে জোর করে উপজেলা সদরে নিয়ে ৬ শতক জমি লিখে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার (২৪), স্বামী দারুমিয়া শেখ, জানান, ৪ লাখ টাকা নিয়ে সাড়ে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও তার স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়া হয়নি। উল্টো সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

হ্যাপি আক্তার (২৮), স্বামী শিমুল মোল্লা, গ্রাম আড়ুয়াবর্ণী বলেন, ৩ লাখ টাকা নিয়ে তিনি সাড়ে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। তারপরও চেক ও স্ট্যাম্প আটকে রাখা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গরিব ও নিম্নআয়ের মানুষ সুদের জালে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। কেউ হারিয়েছেন আবাদি জমি, কেউ বসতভিটা, আবার কেউ মাছের ঘের। প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।