শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল
সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার তালেপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করে।
স্থানীয় সূত্র,শিক্ষক,শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,গত ৯ জুন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবুল কালাম শামসুদ্দিন। এরপরই তিনি সভায় ওই বিদ্যালয়ের পদত্যাগ করা প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কহিনুর রহমানকে পুনরায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার বিষয়ে আলোচনায় আনেন। সহকারী শিক্ষক মঞ্জুরুল আলম বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ করেন । এতে সভাপতির পক্ষে কতিপয় বহিরাগত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।ওই ঘটনার প্রতিবাদে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ফুঁসে ওঠে এবং শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করে। ' শিক্ষকের ওপর হামলা কেনো? জবাব চাই, বিচার চাই -এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন - তালেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই,সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয় পরিচালনা (অ্যাডহক) কমিটির সাবেক সভাপতি তারেক মাহমুদ,সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম,স্বেচ্ছাসেবক দলের ফরিদ দেওয়ান, জিয়াউর রহমান জিয়া, বুলেটসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ,শিক্ষক,শিক্ষার্থী অভিভাবক,পুলিশ, সংবাদকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বক্তারা বলেন,একজন শিক্ষকের ওপর আক্রমণের ঘটনা, পুরো শিক্ষক সমাজের ওপর আঘাতের শামিল। বহিরাগত লোকজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে একজন শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গুরুতর অপরাধ । হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
ভুক্তভোগী সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মঞ্জুরুল আলম বলেন,অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর ওইদিন ছিল প্রথম মিটিং। যেহেতু, আন্দোলনের মুখে প্রধান শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন।তাকে পুনর্বহালের ক্ষেত্রে অ্যাডহক কমিটির এখতিয়ার আছে কিনা এমন প্রশ্নে- পার্শ্ববর্তী ইরতা কাশিমপুর গ্রামের উজ্জল ও ঝন্টুসহ কিছু লোক আমার ওপর আক্রমণ করে। উনারা যেটা করেছেন সেটা জঘন্য কাজ হয়েছে।
তালেবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলেখা বেগম তার সহকারী শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার কথা স্বীকার করে বলেন,শিক্ষক সমাজের জন্য এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি আরো বলেন,এখন আমি আর পদে নাই। গত ৯ জুন পদত্যাগ করা প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কহিনুর রহমানকে বহাল রেখে আমাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
অ্যাডহক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম শামসুদ্দিনের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন,শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় অভিযোগ হাতে পেয়েছি। বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাইরুন্নাহার বলেন,সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে দু'পক্ষই আমার কাছে এসেছিলেন। এটা নিয়ে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








